আবার পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে ইয়েমেনে। সেখানে হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ হামলা, পাল্টা হামলায় সেখানে অস্থির পরিবেশ দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দেশটি আবারও ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ ফিরে গেছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ। সংঘাত বন্ধে রাজনৈতিক সংলাপ ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
শুক্রবার ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে গ্রুন্ডবার্গ বলেন, ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন বেসামরিক মানুষ। এর মধ্যে নারী ও শিশুরা রয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। একইভাবে ইয়েমেনের ঘটনাপ্রবাহও পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে।
গ্রুন্ডবার্গ আরও বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুরক্ষা বৈধ উদ্বেগের বিষয়। এগুলোর সমাধান করা প্রয়োজন। তবে ইয়েমেন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্যোগ অবশ্যই দেশটির বাস্তব পরিস্থিতি এবং জনগণের প্রয়োজন ও আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে। জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত জোর দিয়ে বলেন, ইয়েমেনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবার সময় এখনই। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য সংঘাতের অবসান ঘটাতে যে আলোচনা প্রয়োজন, তার বিকল্প হতে পারে না। এ সময় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোর প্রতি সম্মিলিতভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান গ্রুন্ডবার্গ।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে ইয়েমেনে চলমান সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৩০ জনের বেশি। চলমান সংঘর্ষে শিশুদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে জাতিসংঘের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আলী ফাদেল আল-সাদি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, হুতিদের হুমকি এখন আর শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠীর কাছে অর্থায়ন, অস্ত্র ও প্রযুক্তির প্রবাহ কমাতে নিরাপত্তা পরিষদকে সিদ্ধান্তমূলক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান আল-সাদি। একই সঙ্গে ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার কথাও বলেন তিনি।
