ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চারপাশে চার কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে এ পদক্ষেপ এমন সময় নেয়া হলো, যখন দিল্লি মেট্রো ও রাজধানীমুখী ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের মন্তব্য, ‘একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না।’
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা নির্দেশে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে দিল্লি পুলিশ। টেলিযোগাযোগ আইন ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আগেও বন্ধ হয়েছিল ইন্টারনেট
গত জুলাইয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এনইইটি’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ও কয়েক দিন ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে বিক্ষোভকারীদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে প্রকাশ করতে সমস্যা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব ঘটে।
সে সময় নিষেধাজ্ঞার আওতা ছিল দেড় কিলোমিটার। এবার তা বাড়িয়ে চার কিলোমিটার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জংপুরার কিছু অংশ।
বন্ধ ৫৭ মেট্রো স্টেশনের গেট
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধ, মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ এবং ট্রেন বাতিলের ঘটনায় দিল্লির যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
