সিলেটে সুরমায় হবে ঝুলন্ত সেতু

সিলেটে সুরমায় হবে ঝুলন্ত সেতু

ফন্ট সাইজ:

ঝুলন্ত সেতুর চিন্তা অনেক আগেই ছিল। বিগত দিনে সরকারের মন্ত্রীরা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর সিলেটকে আরও নান্দনিক ও যাতায়াতের সুবিধা বাড়াতে একটি ঝুলন্ত সেতুর চিন্তা করেছিলেন। ক্বীন ব্রিজের পাশেই সেটি করার পরিকল্পনা ছিল। তখনো কাজিরবাজারের সেতু হয়নি। চারটি পিলারের অস্তিত্ব ছিল কেবল। ফলে ব্যয় কমাতে কাজিরবাজার সেতু সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সেতুর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। আর এই সেতু নির্মাণের কারণে নগরের দুই অংশের যাতায়াতের চাপ কমেছে। সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও পরবর্তীতে ড. আবুল মাল আব্দুল মুহিত দু’জনই এই চিন্তা করেন। উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদরা জানিয়েছেন- ঝুলন্ত সেতুর চিন্তা করতে করতে বাস্তবায়নের সুযোগ কেউ পাননি। বরং যাতায়াত দ্রুত করতে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়।

এতে করে নগরের যাতায়াত সহজতর হয়েছে। তবে পায়ে হেঁটে চলার রুট কেবলমাত্র একটিই। সেটি হচ্ছে ক্বীন ব্রিজ। শতবর্ষী এই ব্রিজও জরাজীর্ণ। এখন যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। পায়ে হেঁটে যাতায়াত করে পথচারীরা। এতেও চাপ কমছে না। সিলেট-১ আসনের বর্তমান এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী। তার সঙ্গে আছেন সাবেক মেয়র ও বর্তমান শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও। তাদের দিকেই নজর এখন সিলেটবাসীর। পূর্বের সরকারের রেখে যাওয়া অনেক কাজ হাতে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প, সিলেট-আখাউড়া রেল প্রকল্প, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে সচল করা হয়েছে। মন্ত্রীরা বলেছেন- এসব প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। বাদাঘাট বাইপাস প্রকল্পের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নিজের নেয়া প্রকল্প গ্রহণ ও কাজ শুরু করতে সুরমা নদীর উপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছেন। এ ব্রিজটি হবে ক্বীন ব্রিজের পাশেই। ওই ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি ক্বীন ব্রিজেরও টেকসই সংস্কার করা হবে।

নতুন এই সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি সুরমা পাড়ে গিয়ে সেতুটির সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্বীন ব্রিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগের কথা সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন- ‘ক্বীন ব্রিজের সক্ষমতা বাড়াতে আমরা কাজ করবো। পাশাপাশি সুরমা নদীর উপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই সেতু নির্মাণ হলে সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। তিনি জানান- নতুন সেতু নির্মাণ হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সিলেটের আকর্ষণ আরও বাড়বে। এর ফলে সিলেটের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি দেশের কাছে সিলেটের সুনাম আরও উজ্জ্বল হবে। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সিলেট নগরের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন কাজ খুব শিগগিরই শুরু করা হচ্ছে। গতকাল সিলেট সফরকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন- সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কমবেশি প্রায় সাড়ে চারশ’ কিলোমিটারের মতো উন্নয়ন হয়েছে। বাকি আছে আরও তিনশ’/সাড়ে তিনশ’র মতো। পঞ্চান্ন বছরে যেটা হয়েছে বাকিটা করতে একশ’ দশ বছর লাগবে না। সিলেটের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি বড় প্রকল্প জমা আছে। টিউবওয়েল দিয়ে পানি তোলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। আমরা আরেকটা বড় প্রকল্প নিতে যাচ্ছি। যেটা দিয়ে সুরমা এবং কুশিয়ারা চেঙ্গেরখাল থেকে পানি তুলে পরিশোধন করে সেটা আমাদের ব্যবহারের জন্য নেয়া হবে।