চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে কৌতুকের ছলে খোঁচা দিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মজার ছলে তিনি বলেন, ‘আরও একটু জোরে হাততালি দিলে, হয়তো ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কারটি ভাগ করে নিতে পারি।’
এদিন জার্মানির নুরেমবার্গে একটি একাডেমিক ও আইনি সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে নোবেল পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পকে খোঁচা দেন পিল্লাই।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাততালির মধ্যে কক্ষে প্রবেশের পর পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু জোরে হাততালি দেন, তাহলে হয়তো ট্রাম্পের সঙ্গে এই পুরস্কার ভাগ করে নেব।’
তার এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত ব্যক্তিরা হাসতে শুরু করেন এবং আবারও হাততালি দেন।
আন্তর্জাতিক আইন জোরদার, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান পিল্লাই।
শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ১২৫তম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এ পুরস্কার পেতে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন কিছু করেছি, যা আগে আর কেউ করেনি। বড়াই করছি না, শুধু তথ্য তুলে ধরছি। সম্ভবত কোনো প্রেসিডেন্ট এতগুলো যুদ্ধের অবসান ঘটাননি। আমি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি।’
এর আগে গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থি ও শান্তিকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেয়ায় তখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে ‘শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়ার’ অভিযোগ তোলে তারা।
পরে মাচাদো প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। তিনি একে স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের ‘অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি’ বলে উল্লেখ করেন।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের পুরস্কার ঘোষণার আগে এ নিয়ে চাপের বিষয়টি যে নোবেল কমিটির বিবেচনায় ছিল, তাদের বক্তব্যে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
কমিটি বলেছে, আইনি কাঠামো ও আইনের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার বদলে ক্ষমতার রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শক্তি যখন ন্যায়ের ওপর প্রাধান্য পায়, তখন স্থিতিশীলতা, আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কমিটির চেয়ারম্যান ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁরা আশা করেন।
