আর্থিক নিয়মভঙ্গের দায়ে স্বাধীন কমিশনের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির আকাশে কালো মেঘ জমেছে। তা কাটাতে এবার সরাসরি সমর্থকদের পাশে দাঁড়ালেন ক্লাবটির পোস্টার বয় আর্লিং ব্রাউট হালান্দ। আগামী রোববার অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের মুখোমুখি হওয়ার আগে সিটি সমর্থকদের প্রতি এক আবেগঘণ বার্তায় এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার বলেছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সবাইকে ইতিবাচক থেকে হাসি মুখে এই কঠিন সময় পার করতে হবে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক নিয়মনীতির গুরুতর লঙ্ঘনের মামলায় স্বাধীন প্যানেল সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করার পর ক্লাবটি ইতিমধ্যেই সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। সিটির দাবি, এই রায়ে ‘আইনি ও তথ্যের স্পষ্ট ভুল’ রয়েছে। কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের মধ্যে স্পন্সরশিপের ভুয়া চুক্তি বানিয়ে প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ড আয় বাড়িয়ে দেখায় ম্যান সিটি। বড় ধরনের শাস্তির শঙ্কার মাঝেই আগামী রোববার অ্যানফিল্ডে অলরেডদের মুখোমুখি হচ্ছে এনজো মারেস্কার দল।
স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিটি সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে হালান্দ বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, জীবনের সব অবস্থায় মুখে হাসি বজায় রাখা উচিত। আমাদের ইতিবাচক থেকে সামনের দিকে তাকাতে হবে, একের পর এক ম্যাচ জিততে হবে এবং এই পথ চলা উপভোগ করতে হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে হবে, এক হয়ে লড়াই করতে হবে।’
নিজের বাবার ঐতিহ্য টেনে ম্যানচেস্টারের প্রতি আলাদা টানের কথা জানিয়ে ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার আরও বলেন, ‘আমি শহরটাকে খুব ভালোবাসি। সমর্থকদের জন্য আমার খারাপ লাগে, কারণ আমি নিজেও ম্যান সিটির একজন বড় ভক্ত।’
অন্যদিকে মাঠের বাইরের এই তোলপাড়ের মাঝেও ক্লাবের কোচ মারেস্কা জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত শান্ত আছেন এবং ক্লাবের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সিটি টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব শান্ত আছি। ক্লাব তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এবং আমি তাদের ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখি। বাইরে অনেক শোরগোল হচ্ছে, কিন্তু আমাদের ফোকাস কেবল ফুটবলীয় দিকটায়, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। খেলোয়াড়রা এসব নিয়ে একদম ভাবছে না। তারা কেবল লিভারপুলকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখার বিষয়ে মনোযোগী।’
আইনি সূত্রের তথ্যমতে স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিটির দায়ের করা এই আপিল প্রক্রিয়া ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সিটির আইনজীবীরা দাবি করতে পারেন, তাদের ওপর ২০২৩ সালে আনা অভিযোগ বর্তমান ত্বরান্বিত আপিল নিয়মের আওতায় পড়ে না। সব চাপ ও অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে অ্যানফিল্ডের অলরেড চ্যালেঞ্জ জয় করাই এখন মারেস্কা ও হালান্দদের প্রধান পরীক্ষা।
