সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ দূষণ, মালয়েশিয়ায় বন্ধ স্কুল

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের প্রভাব

সিঙ্গাপুরে সর্বোচ্চ দূষণ, মালয়েশিয়ায় বন্ধ স্কুল

ফন্ট সাইজ:

ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া ও কুয়াশায় (হেইজ) ঢেকে গেছে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এই বিষাক্ত ধোঁয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ফিলিপাইনে ছড়িয়ে পড়ায় সার্বিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে বার্ষিক ফর্মুলা ওয়ান (এফ-১) গ্র্যান্ড প্রিক্স শুরুর দিনেই দেশটির বায়ুর মান চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবানল ও ধোঁয়াজনিত কারণে দেশটিতে প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার মানুষ শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন। মূলত পাম তেলের বাগান সম্প্রসারণ এবং নতুন ফসলি জমি তৈরির লক্ষ্যে কৃষক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবৈধভাবে আগুন দিয়ে বন সাফ করার কারণে প্রতি বছরই এই দুর্যোগ তৈরি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, চলতি বছর শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে তীব্র খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ২০১৫ সালের পর দেশটিতে সবচেয়ে মারাত্মক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও (কালিমান্তান) ও সুমাত্রার পাশাপাশি এবার পাপুয়া অঞ্চলেও বিপুল সংখ্যক আগুনের হটস্পট শনাক্ত করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস। এর ফলে আশেপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে দূষণ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার জোহর, মেলাকা, নেগেরি সেমবিলান ও সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ফাধলিনা সিদেক জানিয়েছেন, বায়ু দূষণ সূচক (এপিআই) ১৮০ ছাড়ালে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই সংকট মোকাবিলায় আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি যৌথ বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিবেশ সংস্থা জানিয়েছে, বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে পলিউশন স্ট্যান্ডার্ডস ইনডেক্স (পিএসআই) দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ১৭০ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। ঘন ধোঁয়ায় সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও গগনচুম্বী অট্টালিকাগুলো ঢেকে গেছে এবং রাস্তায় মানুষ মাস্ক পরে চলাফেরা করছেন।

দেশটির পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, চলমান ফর্মুলা ওয়ান রেসে অংশ নেয়া প্রতিযোগীদের সুরক্ষায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরামর্শ ও মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো এই বনাঞ্চলে আগুন দেয়ার সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছেন। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।