সরাসরি সম্প্রচার করা হবে সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

হেগসেথের ঘোষণা

সরাসরি সম্প্রচার করা হবে সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

ফন্ট সাইজ:

সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে এ মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করা হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। আগামী ৩রা ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে দুপুর একটায় এ রায় কার্যকর হবে। টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে নিদাল দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। গত ছয় দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। আধুনিক যুগে দেশটিতে এমন প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডও প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

পিট হেগসেথ একটি সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেন, সেনাসদস্যদের একটি ফায়ারিং স্কোয়াডে এ রায় কার্যকর করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে এটি দেখতে পান সেজন্য পুরো প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত রাখা হবে। তিনি মন্তব্য করেন, বাহিনীর ভেতর থেকে এমন হামলার পরিণতি কতটা মারাত্মক হতে পারে তা সবার জানা প্রয়োজন। হাসান কোনো শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কি না বা প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো মানবিক আবেদন জানিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নে হেগসেথ বলেন, এতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।

২০০৯ সালের ৫ই নভেম্বর ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি মেডিকেল সেন্টারে এলোপাতাড়ি গুলি চালান সাবেক সামরিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেজর নিদাল হাসান। এতে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনা নিহত হন এবং আরও বহু সেনাসদস্য আহত হন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর থেকে তিনি কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থ সামরিক কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তদন্তে জানা যায়, হামলার আগে কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। এছাড়া ১৯৬১ সালের পর সামরিক বাহিনীতে কোনো মৃত্যুদণ্ডই কার্যকর করা হয়নি। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দীর্ঘদিনের স্থগিতাদেশ বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে মৃত্যুদণ্ড এভাবে সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শামিল বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস দৃশ্য প্রচারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকায় এটি কোন প্ল্যাটফর্মে লাইভ দেখানো হবে তা স্পষ্ট নয়। হাসান যদি বেসামরিক ফেডারেল আদালতে তার দণ্ড স্থগিতের আবেদন জানান, তবে আইনি লড়াইয়ের কারণে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।