চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাংকরোডে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ দুই শিশুর মধ্যে মো. রাব্বি (৪) নামে এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচদিন পরে মৃত্যুবরণ করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
একই সময় দগ্ধ অপর শিশু ফাইজা আক্তার (৬)-এর অবস্থায়ও আশঙ্কাজনক। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন শিশুর খালা ইয়াছমিন আক্তার। তিনি বলেন, রাব্বির মা ইমা আমার আপন খালাতো বোন। তিনি ফোন করে জানিয়েছেন ভোর ৪টার দিকে রাব্বি মারা গেছে। অপর শিশু ফাইজার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এর আগে গত ৩রা অক্টোবর বেলা ২টার দিকে শহরের নিউ ট্রাংক রোডের আর এস টাওয়ারের পঞ্চম তলায় পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দায় খেলতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে ফাইজা ও রাব্বি দগ্ধ হয়। প্রথমে তাদের চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ঘটনার পর চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিবুল হাসান জানান, দগ্ধ দুই শিশুকে তিনি নিজেই চিকিৎসা দিয়েছিলেন। ফাইজার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর শিশু রাব্বির শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। নিহত রাব্বি ও ফাইজা খালাতো ভাইবোন। তারা মায়ের সঙ্গে ঘটনার দিন চাঁদপুর শহরের ওই বাসাতে বেড়াতে আসে। তাদের উভয়ের বাড়ি পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানায়।
এদিকে ঘটনাস্থল চাঁদপুর শহরের আরএস টাওয়ারের মালিকের কাছে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ভাড়াটিয়া শিশুদের খালা ইয়াছমিন গত আড়াই বছর ধরে এই বাসায় ভাড়া থাকেন। তার স্বামী সোহেল দেওয়ান সৌদি প্রবাসী। তাদের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালিরবাজার এলাকায়। এই ঘটনার পর তারা শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কোনো আইনি প্রদক্ষেপ নিতে পারেননি। চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, এই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
