শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা মামলায় সৎ মা ও পিতা গ্রেপ্তার

শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা মামলায় সৎ মা ও পিতা গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ওয়াসকুরুনি ইসলাম নামে আড়াই বছরের শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সৎ মা আকলিমা ও বাবা আব্দুল কাদিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত শিশুর মা শেফালী আক্তার বাদি হয়ে গৌরীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বিকালে বাবা ও সৎ মাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সুত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে সৎ মা বাচ্চাটিকে ডিম খাওয়ায় ও পানি পান করায়। ডিম খাওয়ার পর বাচ্চাটিকে গোসল করিয়ে ঘুম পাড়াতে বিছানায় শুইয়ে দেয়। পরে বাচ্চাটি কাশি দিতে শুরু করলে দাদী আছিয়া আক্তার শব্দ শুনে ঘরে গিয়ে বাচ্চাটিকে বাইরে নিয়ে আসে। তখন দেখতে পায় বাচ্চার মুখ থেকে বিষের গন্ধ বের হচ্ছে। শিশুর চাচারা বিষয়টি তার বাবাকে জানায়।

পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ও সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুর মা শেফালী বলেন, আমার সাথে আব্দুল কাদিরের ১৫ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। আব্দুল কাদিরের সাংসারিক অবস্থা ভালো না থাকায় আমি বাবার বাড়ি থেকে টাকা পয়সা এনে সংসারটা সাজাই। সংসার ভালোই চলছিলো। আমাদের সংসারে দুটি ছেলে সন্তান। এক বছর আগে আব্দুল কাদির তার বর্তমান স্ত্রীর সাথে পরকীয়া প্রেম করে তাকে তালাক দেয়। ঋণ করে তাকে টাকা দিয়েছি। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করি।

তিনি আরও বলেন, তালাক দেওয়ার এক সপ্তাহ পর আব্দুল কাদির ২য় বিয়ে করে। গত ৬ অক্টোবর আমার ছোট ছেলেকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে আব্দুল কাদির ও তার বর্তমান স্ত্রী। আমাকে না জানিয়ে সৎ মাকে মা সাজিয়ে এনে হাসপাতাল থেকে এনে দাফন করার চেষ্টা করে। আব্দুল কাদির বলেন, ঘটনার দিন আমি ছেলেকে ভালো দেখে যাই এবং ছেলের সাথে খেলাধূলা করে খড় আনতে যাই ঢালিয়া বিলে। ঢালিয়া বিলে থাকাবস্থায় আমি খবর শুনি ছেলে বিষ খাইছে। পরে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং হাসপাতালেই ছেলে মারা যায়।

শিশুর দাদী আছিয়া বলেন, ঘটনার দিন নাতির কাশি শুনে ঘরে ঢুকে দেখেন নাতিকে নিয়ে তার সৎ মা শুয়ে আছে। তখন তিনি নাতিকে সেখান থেকে বাইরে বের করে দেখেন মুখে বিষের গন্ধ করছে। পরে তার চাচারা বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে নাতি মারা যায়।

শিশুর বড় চাচা মতিউর রহমান জানান, আব্দুল কাদিরের প্রথম স্ত্রী অনেক ভালো ছিলো। আব্দুল কাদির পরকীয়া করে,আমরা তাকে এই পথ থেকে ফিরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে শেফালিকে তালাক দিয়ে আকলিমাকে ২য় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে। ঘটনার দিন বাড়ির সামনের মসজিদে নামাজ পড়াবস্থায় চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ফরজ নামাজ শেষে এসে দেখি ভাতিজার মুখ থেকে বিষের গন্ধ বের হচ্ছে। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। শিশুর মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে।