সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) হুতিদের এ দাবির মধ্যেই রিয়াদজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তবে হুতিদের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি সৌদি আরব। সেই সঙ্গে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় কূটনীতিকদের নিজ নিজ দূতাবাসে অবস্থান করতে বলা হয়। আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এর একদিন আগে কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। একই দিনে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় নিহত হন আরও দুজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন। নিহতদের একজন মরক্কোর ও অন্যজন আলজেরিয়ার নাগরিক।
হামলার কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই বিমানবন্দরেই ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি বলেন, রিয়াদের উত্তরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালানোর একটি প্ল্যাটফর্মও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলার দাবি করেছে হুতিরা।
এদিকে হুতিদের দখলে থাকা পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুনর্দখলে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে।
বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্য এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে সৌদির অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ানো এবং দেশটিকে চাপের মুখে ফেলতে চাইছে হুতিরা।
জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেনে সংঘাত ফের তীব্র হওয়ার পর গত জুলাই থেকে ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেন এখন অন্যতম সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
