ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বৃহস্পতিবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরো তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। বুধবার সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে আবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জোটের নেতারা জানান, এই আন্দোলনে আরও বেশি সংখ্যক সাংসদ অংশ নেবেন। বুধবার যা ঘটেছে এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলের সাংসদরা বৃহষ্পতিবার দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ দিল্লির একটি ক্যাফেতে বৈঠকে বসে তাদের আন্দোলনের কৌশল ঠিক করবেন। বৈঠকের পর তাদের রাজঘাটের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ৮ অক্টোবরকে দেশজুড়ে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করার ডাক দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভ আন্দোলনের জেরে ফের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিল্লিতে দলের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেয়া এবং ধাক্কাধাক্কি ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরও কয়েকজন কংগ্রেস নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধেও এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভের সময় কয়েকজন সাংসদ ও নেতাসহ মোট ৯১ জনকে আটক করা হয়েছিল। বুধবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। এরপর পুলিশ তাকে ও আরও কয়েকজন সাংসদকে আটক করেছিল।
সিপিআই সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার জানান, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার করবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জোটের আনুষ্ঠানিক অংশীদার না হওয়া সত্ত্বেও বিজু জনতা দল (বিজেডি)-সহ সমস্ত বিরোধী দলই শামিল হয়েছে। কুমার আরো বলেন, এই প্রতিবাদ এখন ‘জাতির প্রয়োজনে’ পরিণত হয়েছে এবং এটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ।
জ্ঞানেশ কুমারের বেআইনি কার্যকলাপ’-এর খতিয়ান পেশের উদ্দেশ্যে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের যে আর্জি জানিয়েছিলেন বিরোধীরা তার অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, ১৫ জন নেতার একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাতের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার জন্য ১০ জন সদস্যকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিনিধি দলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার কথা রয়েছে।
