যাচাই করা নাগরিকদের মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার: মিন অং হ্লাইং

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ায় আটক মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে যাদের পরিচয় ও জাতীয়তা যাচাই করা হয়েছে, তাদের যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা, ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে, মালয় মেইল ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মিন অং হ্লাইং এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘যাচাই করা নাগরিকদের আমরা যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নেব।’

মিন অং হ্লাইং বুধবার দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন তার সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক ও পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, এখন পর্যন্ত বিমান ও নৌযানের মাধ্যমে ১০ হাজার ৪৯৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার বিপুলসংখ্যক নাগরিককে নিজ খরচে দেশে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখানোয় মালয়েশিয়া দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
আনোয়ার আরও জানান, মালয়েশিয়ার অভিবাসন ডিপোতে বর্তমানে থাকা আরও ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিন অং হ্লাইং সম্মতি দিয়েছেন। তবে প্রত্যাবাসনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা, পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অপরাধমূলক রেকর্ডও পরীক্ষা করা হবে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে তিনটি মিয়ানমারের নৌযানে করে দেশে পাঠানো হয়। পরবর্তী ধাপে আরও ৩ হাজার ৫২৪ জনকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে এ বিষয়ে আরও সমন্বয় চলছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কিছু প্রত্যাবাসিত ব্যক্তি নিজ দেশে নির্যাতন বা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়ম ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। দুই দেশই বিষয়টি কূটনৈতিক সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

মিন অং হ্লাইংয়ের মালয়েশিয়া সফরে নাগরিক প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি ও খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম গত বছরের তুলনায় ১৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়েও মালয়েশিয়া তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।