আকাশপথে স্বাধীন-সার্বভৌম কূটনীতির মহাযাত্রা!

বোয়িং থেকে এয়ারবাস

আকাশপথে স্বাধীন-সার্বভৌম কূটনীতির মহাযাত্রা!

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে ৭ অক্টোবর ২০২৬ একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একক বোয়িংনির্ভরতার বাইরে গিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হলো। আগে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে সম্পাদিত ২৫টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তির সঙ্গে নতুন ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হওয়ায় সব মিলিয়ে বিমানের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে ৩৫টি আধুনিক প্রজন্মের উড়োজাহাজ।

এটি নিছক বিমানবহর আধুনিকীকরণের কোনো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়। বাংলাদেশের মতো ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের জন্য এটি সরবরাহকারী বৈচিত্র্য, বাণিজ্যিক দর-কষাকষির সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ভারসাম্য তৈরির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাধীন ও সার্বভৌম কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন—যেখানে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়িয়ে বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা স্পষ্ট।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, একটি দেশের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন যদি কোনো একক বিদেশি প্রস্তুতকারকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক সংকট, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন কিংবা ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় তার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের বড় অংশ বোয়িংনির্ভর ছিল। এই বাস্তবতায় এয়ারবাসকে বহরে যুক্ত করা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বব্যবস্থাও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও বহুমাত্রিক। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য, বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এই সময়ে কৌশলগত খাতগুলোতে অংশীদারত্বের বৈচিত্র্য একটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সিদ্ধান্তকে সেই বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতার আলোতেই দেখা যেতে পারে। স্থল, জল কিংবা আকাশ—কোনো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ যেন একক নির্ভরতার কারণে সংকুচিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বহুমুখী অংশীদারত্বের প্রয়োজন।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ধরনের জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছে, এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখার সিদ্ধান্তকে তারই একটি বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে দেখা যায়।

বিশ্ব এভিয়েশন শিল্পে বোয়িং ও এয়ারবাস দুই প্রধান উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করে বহর সম্প্রসারণের ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সামনে ভবিষ্যতে রুট ও উড়োজাহাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প তৈরি হবে। ৭ অক্টোবর র‌্যাডিসন ব্লুতে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের জন্য উপযোগী। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো দূরবর্তী গন্তব্যে সরাসরি ও আরামদায়ক ফ্লাইট পরিচালনায় এই উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য উপযোগী। তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার রুটে জ্বালানি দক্ষতার কারণে এ ধরনের উড়োজাহাজ কার্যকর হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৩ সালে এয়ারবাসের প্রথম সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা এবং পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা বহরে যুক্ত হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ এপ্রিল প্রথম ধাপে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়, যার আনুমানিক তালিকামূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার এবং অর্থায়নে যুক্ত থাকছে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক। পরবর্তীতে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পাদিত হয়। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের নতুন অর্ডারে থাকছে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮।

এই বহরের মাধ্যমে বিমানের দূরপাল্লার, আঞ্চলিক ও উচ্চ চাহিদার রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ২০২৫ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যঘাটতি কমানো এবং শুল্ক কাঠামোর ভারসাম্য আনার উদ্দেশ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা নিজেদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়েছে—এটিও এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আধুনিক এভিয়েশন ব্যবস্থায় বহরে একাধিক প্রস্তুতকারকের উড়োজাহাজ রাখার যেমন সুবিধা আছে, তেমনি এর সঙ্গে কিছু ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রকৌশল সক্ষমতার জন্য পৃথক অবকাঠামো ও দক্ষতা প্রয়োজন হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহকারী বৈচিত্র্য তৈরি হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যন্ত্রাংশ ক্রয়, প্রকৌশল সহায়তা, সার্ভিসিং এবং ভবিষ্যৎ উড়োজাহাজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে দুটি বৈশ্বিক সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পর্ক একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

এখানেই এই চুক্তির অর্থনৈতিক গুরুত্বও নিহিত। বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ১ কোটি ২৭ লাখের বেশি যাত্রী গমনাগমন করেছেন। একই সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১,৫৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব ও ৭৮৫.২১ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এই বাস্তবতায় বহর সম্প্রসারণের অর্থ কেবল আরও বেশি উড়োজাহাজ কেনা নয়; সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রুট পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি রাজস্ব, সংযোগ এবং জাতীয় অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দূরপাল্লার নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ইউরোপ, আমেরিকা, সুদূর প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি আকাশসংযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। তৈরি পোশাক, পচনশীল পণ্য ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের কার্গো পরিবহনে বিমানভিত্তিক সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কক্সবাজার, সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উন্নত বিমানসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার যে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, সেটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আধুনিক ও পর্যাপ্ত বহর একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এর গুরুত্ব কম নয়। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ বিমানভাড়া, সীমিত আসন এবং নির্দিষ্ট সময়ে টিকিটের সংকটের মুখোমুখি হন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়লে প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া, বেশি ফ্লাইট এবং উন্নত সংযোগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের ভ্রমণ যেমন সহজ হতে পারে, তেমনি প্রবাসী আয় ও দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই পুরো উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক সাফল্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না। ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনা যেমন বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে, তেমনি এর সঙ্গে বড় দায়িত্বও যুক্ত হচ্ছে। বিমানকে লাভজনক ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে রুট নির্বাচন, যাত্রীসেবা, সময়ানুবর্তিতা, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ব্যবস্থাপনা, কার্গো সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। নতুন উড়োজাহাজ কেনা তখনই প্রকৃত সাফল্যে পরিণত হবে, যখন সেগুলো সর্বোচ্চ দক্ষতায় পরিচালিত হবে এবং জাতীয় পতাকাবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানের এয়ারলাইন হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

এখানে সরকারের সমালোচকদের কথাও একেবারে উপেক্ষা করা উচিত নয়। কোনো বড় জাতীয় প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয়, অর্থায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালন সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার সবার আছে। তবে সমালোচনা যেন রাজনৈতিক পূর্বধারণা বা একতরফা বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা হওয়া উচিত তথ্য, অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। একইভাবে সরকারেরও উচিত সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে চুক্তির আর্থিক কাঠামো, অর্থায়নব্যবস্থা, সরবরাহসূচি এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফল সম্পর্কে জনগণের সামনে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ তথ্য তুলে ধরা।

কারণ সার্বভৌম কূটনীতি মানে কোনো শক্তির বিরোধিতা করা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিমান ক্রয় ও অর্থায়নের সম্পর্ক, অন্যদিকে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব—দুটিই বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের আকাশপথ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। আজকের বিশ্বে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি বহুমুখী, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর এভিয়েশন কৌশল গড়ে তোলা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি এই ৩৫টি উড়োজাহাজকে কেন্দ্র করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালন সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক রুট, কার্গো পরিবহন, পর্যটন সংযোগ এবং যাত্রীসেবা একই সঙ্গে উন্নত করতে পারে, তাহলে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের ২৫টি—সব মিলিয়ে ৩৫টি নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ তাই কেবল স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি কিছু যান নয়; এগুলো বাংলাদেশের সম্ভাবনা, আত্মমর্যাদা এবং বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরির একটি সুযোগ। তবে এই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কূটনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি প্রয়োজন হবে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বাণিজ্যিক দূরদর্শিতা।

বোয়িং ও এয়ারবাসের ডানায় ভর করে সবুজ পতাকাবাহী বিমান যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আরও বিস্তৃতভাবে ডানা মেলবে, তখন সেটি শুধু একটি এয়ারলাইনসের সম্প্রসারণের গল্প হবে না; এটি হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং আত্মমর্যাদারও একটি দৃশ্যমান প্রকাশ। স্বাধীনতার ৫৬ বছর পর আকাশপথে এই নতুন বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য বাংলাদেশের জন্য স্বাধীন-সার্বভৌম কূটনীতির এক নতুন মহাযাত্রার সূচনা করতে পারে। এতে আমার ন্যূনতম সন্দেহ নেই। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

ই-মেইল: [email protected]