প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। একটি সাধারণ নির্বাচন এটি। আগামী ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে। সাধারণত নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরের প্রথম মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় এই নির্বাচন। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস সদস্যদের মেয়াদ ২ বছর। ফলে নিম্নকক্ষের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।
উচ্চকক্ষের সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর। সিনেটে ১০০টি আসনের মধ্যে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩৫টি আসনে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে গভর্নর নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের গতিপথ নির্ধারণসহ নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ নির্বাচন। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে দেখা হয় বর্তমান প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি সমর্থন বা জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরিমাপক হিসেবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে পারে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ। যা ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রেসিডেন্টের নীতি বাস্তবায়নে বড় প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্ববাসীর নজর এখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালের অর্ধেক সময় অতিবাহিত না হতেই হাঁপিয়ে উঠেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। জ্বালানিসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধ বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে কোটি মানুষকে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কাছে ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ। ভোটারদের এই উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ মূল্যস্ফীতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ০.৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩.৪ শতাংশে। খাবারের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে এবং এনার্জির দাম বেড়েছে ১৬.৩ শতাংশ। দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ অনুভব করছেন আমেরিকানরা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য। ট্রাম্পের একরোখা ও গণবিরোধী নীতি রিপাবলিকান পার্টিকে বাধ্য করছে জনপ্রিয়তা হারাতে। যা মানবিক মূল্যবোধ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ন্যায় নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করছেন সাধারণ মানুষ। সবকিছু মিলিয়ে আমেরিকানরা পরিত্রাণ চায় শ্বাসরুদ্ধকর এমন অবস্থা থেকে। ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা।
পরিবর্তন আসতে পারে কংগ্রেসে
মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হতে পারে কংগ্রেসের। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডনাল্ড ট্রাম্প একজন অস্থির প্রেসিডেন্ট। জনমত জরিপে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তার পূর্বসূরিদের তুলনায় সবচেয়ে নিচে। ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলে বাধা তৈরি হবে। যা বড় প্রভাব ফেলবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়ন ও ক্ষমতার ভারসাম্যে। কংগ্রেসের নজরদারি বাড়বে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। কংগ্রেসে আইন প্রণয়ন, সরকারের বাজেট নির্ধারণ এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালাতে ডেমোক্র্যাটরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মরিয়া কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ, ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর হিসাবে রয়েছে এমন পূর্বাভাস। তাদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ২৩৪টি, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ২০১টি। লড়াইটি সিনেটের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ৫১-৪৯ ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। শুধু প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলো নিয়ন্ত্রণ এবং সমন জারি করে ক্ষমতা পাবে সাক্ষ্য তলবের। দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা, স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি পুনর্বহাল, ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল এবং উদ্যোগ নেবে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধের। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে দলটির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক’ সংখ্যাটি হচ্ছে ২১৮। রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল ২২০-২১৫ ব্যবধানে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের এবার বাড়াতে হবে ৩টি আসন। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে মৃত্যু, পদত্যাগ এবং একজন সদস্যের দলবদলের কারণে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। শূন্য রয়েছে দুটি আসন। ফলে দুটি আসন হারালেও রিপাবলিকানদেরপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা সম্ভব। কিন্তু তা সম্ভব হবে না তিনটি আসন হারালে। সিনেটে নির্বাচন হচ্ছে ৩৫টি আসনে। এর মধ্যে ৩৩টি আসনের নিয়মিত ছয় বছর মেয়াদি নির্বাচনের অংশ। বিশেষ নির্বাচন হচ্ছে ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দুটি আসনে। সিনেটে ১০০ আসনের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে।এ হিসাবে ভোট দেওয়া দুই স্বতন্ত্র সিনেটরকেও ধরা হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের ৫১ আসনে পৌঁছাতে বাড়াতে হবে ৪টি আসন। সিনেটে ৫০-৫০ সমতা হলে সিদ্ধান্ত হবে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে।
যেসব প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারান
ঐতিহাসিক্রভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় একটি সাধারণ প্রবণতা। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত কংগ্রেসের আসন হারায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে। প্রায় সব প্রেসিডেন্টই কংগ্রেসে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারান প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে। ধাক্কা খান বড় ধরনের। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই অভিশাপকে রাজনৈতিকভাবে বলা হয় “মিডটার্ম কার্স”। ইতিহাসের এসব প্রেসিডেন্টদের মধ্যে হ্যারি এস ট্রুম্যান ১৯৪৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়। দলটি রেকর্ড ৫৫টি আসন হারায় প্রতিনিধি পরিষদে। ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার ১৯৫৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খান। তার দল রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদে ৪৮টি এবং সিনেটে ১৩টি আসন হারায় অর্থনৈতিক মন্দার মুখে। প্রথম মেয়াদে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিল ক্লিনটন নিয়ন্ত্রণ হারান কংগ্রেসের উভয় কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে। জর্জ ডব্লিউ বুশের রিপাবলিকান পার্টি ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল কংগ্রেসের উভয় কক্ষের। স্বাস্থ্যসেবা আইন-ওবামাকেয়ার নিয়ে বিতর্কের জেরে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব হারান বারাক ওবামা। প্রতিনিধি পরিষদে বড় পরাজয় বরণ করে ডেমোক্রেটরা। বিশাল পরাজয় হিসেবে যাকে অভিহিত ওবাশা “শেল্যাকেন্টিং” বলে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৮ বার প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারিয়েছে প্রেসিডেন্টের দল। প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬টি আসন এবং সিনেটে গড়ে ৪টি আসন হারায়। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৩৪ ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং ২০০২ জর্জ ডব্লিউ বুশ, এই মাত্র দুবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সক্ষম হয়েছিল কংগ্রেসের উভয় হাউসেই আসন বাড়াতে। সিক্স-ইয়ার ইচ প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রবণতা দেখা যায় প্রথম মেয়াদের চেয়ে সাধারণত বেশি আসন হারানোর।
এছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভর্নর নির্বাচন হবে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের মোট অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে—এমন আসনসংখ্যা ৬১৩৯। নির্বাচনে তারা কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন জনমত জরিপে এমন প্রশ্নে রিপাবলিকানদের চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাটরা। রয়টার্সের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার সর্বনিম্ন ছিল ৩২ শতাংশ। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে একমাত্র কংগ্রেসের উভয় হাউজে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় রুখে দিতে পারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপ্রতিরোধ্যগতি। যুক্তরাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় আনতে পারে সাংবিধানিক ভারসাম্য। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী কামালা হ্যারিসকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সে সময় নির্বাচন বিতর্কে প্রাধান্য পায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজা ইস্যু। এছাড়া আভ্যন্তরীন ইমিগ্রেশন ইস্যু, বিশেষ করে আইসের মাধ্যমে ধরপাকড় ও ডিপোর্টেশন। জয়ী ট্রাম্প এজন্য অতিরিক্ত তহবিলি জোগার করে ওয়ান বিগ বিউটিফুল এ্যাক্টের মাধ্যমে। এছাড়া চলতি বছর মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে সহজভাবে নিচ্ছেন না আমেরিকানরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে এসব ইস্যু।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান ইস্যুর মধ্যে থাকছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসার এবং ডাটা সেন্টার, দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, হেলথ কেয়ার, ট্যারিফ। বিদেশ নীতির অন্যতম ইস্যু হচ্ছে আমেরিকান মিত্রদের সাথে সম্পর্ক, ইরান যুদ্ধ ও প্যালেস্টাইন-ইসরাইল বিরোধ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয়
মধ্যবর্তী নির্বাচনে এবার ব্যয় হতে পারে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বিজ্ঞাপনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি হবে এবার। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে এ বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ২৪৯৭ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের আসনের জন্য লড়েছেন ২ হাজার ২৩২ জন। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৪টি আসনে ৩ নভেম্বরের ভোটে প্রধান দুই দলের ওই প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যারা ২০২৪ সালের নির্বাচনেও ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী। নির্বাচনে ভোটার টানার প্রচারে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পার্টির তহবিলে আছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
এই অর্থ দিয়ে পরাজয় ঠেকানো যাবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে দলের ভেতরে। তহবিল বণ্টন হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে। ট্রাম্প সমর্থকদের তৈরি ‘মাগা ইঙ্ক’ বা মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন ইনকরপোরেশন পেয়েছে সবচেয়ে বড় অংশ। মাগা ইঙ্ক মূলত রাজনীতিতে নির্বাচনী প্রচার অর্থের ক্ষমতারও পরীক্ষা নিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রায়ই তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করছে। রাজনৈতিক দলগুলো কত টাকা খরচ করতে পারবে, তার ওপর থাকা বাধ্যবাধকতা গত জুন মাসে তুলে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ব্যবস্থায়।
লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক।
