দেশের জন্য সম্মান ও সাফল্য বয়ে আনতে খেলোয়াড়দের আরও বেশি দায়বদ্ধতা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেম নিয়ে মাঠে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের সামাজিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মিলনায়তনে এশিয়ান গেমসগামী প্যারা অ্যাথলেটদের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম এবং ন্যাশনাল প্যারা অলিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং সাফল্য অর্জন করা ক্রীড়াবিদদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। অতীতে কাক্সিক্ষত সাফল্য না এলেও সরকার ‘জিরো’ থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগামী সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় পরিবর্তন আনা হবে।
প্যারা অ্যাথলেটদের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্যারা ইউথ গেমসে চৈতি রানীর স্বর্ণজয় আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আসন্ন প্যারা এশিয়ান গেমসেও তাদের কাছ থেকে আরও সাফল্য ও স্বর্ণপদক প্রত্যাশা করছে দেশ। তাদের সাফল্য দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন আরও অনেক মানুষকে খেলাধুলায় আসতে উৎসাহিত করবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। দ্রুত সরকারি প্রক্রিয়া ও ডিপিপি অনুমোদন শেষ করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সামাজিক সুরক্ষা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া এশিয়ান গেমসে ২২টি ইভেন্টে কাক্সিক্ষত সাফল্য না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করতে উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বর থেকে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য বছরব্যাপী নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হবে। ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতি সবার জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। ফেডারেশন থেকে অ্যাথলেটÑসবাইকে এই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। কাক্সিক্ষত সাফল্যের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য, একাগ্রতা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই।
