স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

ফন্ট সাইজ:

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বুধবার ‘মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি এস. এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস. এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিট দায়ের কারী আইনজীবী জাহিদ তালুকদার।

রিট দায়েরের পর রিটকারীর আইনজীবী জাহিদ তালুকদার জানান, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা না নিয়ে ডিজিটাল লটারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর লটারি পদ্ধতি বাতিল করে স্কুলগুলোতে আবারও ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান এবং সেদিনই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লটারি বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হবে এবং দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আইনজীবী জাহিদ তালুকদার বলেন, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে আবারও কোচিং বাণিজ্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং খুদে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার কারণে মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে পড়বে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, লটারি বাতিল সংক্রান্ত সরকারি এই সিদ্ধান্তটি পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। অংশীজনদের সঙ্গে কোনো কার্যকর আলোচনা ছাড়াই সরকার একতরফাভাবে এটি চাপিয়ে দিয়েছে। স্কুল পর্যায়ে এ ধরনের ভর্তি পরীক্ষা সমাজে নতুন করে অসমতা তৈরি করবে। কারণ, সমাজের দরিদ্র শ্রেণির অভিভাবকদের পক্ষে কোচিং ও প্রাইভেট টিউটরের বাড়তি ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়, যার ফলে তাদের সন্তানেরা পিছিয়ে পড়বে।

আশঙ্কা প্রকাশ করে এই আইনজীবী বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাখাতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য ব্যাপক হারে বাড়বে। কোমলমতি শিশুরা প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার বাড়তি বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠুক—তা কাম্য নয়। মূলত এসব দিক বিবেচনা করেই স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আদালতে এই প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।