সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় অডিট চলাকালে শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম কীটনাশকযুক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে মারা গেছেন। এ ঘটনায় অডিট কমিটির তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুস সালাম গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায়। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিমগাছী শাখায় কয়েকদিন ধরে অডিট কার্যক্রম চলছিল। এ সময় আব্দুস সালামকে উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল বলে সহকর্মীরা জানান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি দুটি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা তাকে দ্রুত বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, অডিট চলাকালে আব্দুস সালামকে হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ‘আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব’এমন কথা বলেন।
পরে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার পর অডিট কমিটির সদস্যদের বিক্ষুব্ধ জনতা ও ব্যাংকের কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ওই অডিট কমিটির চিপ জুলফিকারসহ তিনজনকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। এই মৃত্যুর সঙ্গে অডিট টিমের কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
