আবরার হত্যা মামলায় দ্রুত শুনানির উদ্যোগ

প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

ফন্ট সাইজ:

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল শুনানিতে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে রাষ্ট্রপক্ষ। একইসঙ্গে মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে আপিল শুনানির উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং ফ্যাসিবাদের যে উত্থান ঘটেছিল, তারই প্রেক্ষাপটে বুয়েটের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আবরার ফাহাদ এবং তাকে আক্রমণকারী উভয়পক্ষই বুয়েটের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে আক্রমণকারীরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সদস্য ছিলেন। সে সময় ক্ষমতাসীন সরকারের ছত্রছায়ায় অপরাধ করলে কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না— এমন একটি মানসিকতা কাজ করতো। আবরার ফাহাদ ভিন্নমত পোষণ ও তা প্রকাশ করার কারণেই তার ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে তার মৃত্যু ঘটে। মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, বিচারিক আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত কার্যকর হয় না। হাইকোর্টে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ নিম্ন আদালতের রায়কে সমর্থন করে এবং হাইকোর্ট বিভাগও নিম্ন্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করার সাংবিধানিক অধিকার পান। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য পৃথক লিভ পিটিশনের শুনানির প্রয়োজন পড়ে না। তবে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে লিভ পিটিশন শুনানির নিয়ম রয়েছে। একই রায় থেকে উদ্ভূত হওয়ায় আপিল বিভাগে সবগুলো আবেদন একসঙ্গে শুনানি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য ডেডিকেটেড টিম গঠন করে মাগুরার আসিয়া হত্যা ও ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি সম্পন্ন করেছে এবং রামিসা হত্যা মামলার শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ক্ষেত্রেও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের পূর্ণ তৎপরতা থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ১৫ই অক্টোবর থেকে ভাইভা: এদিকে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত রাষ্ট্রপক্ষ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর ফলে আগামী ১৫ই অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠেয় ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইলো না। তবে রিট আবেদনকারী ৪৬ জন শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।