Warning: unserialize(): Extra data starting at offset 670227 of 670228 bytes in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 26
ঢাকার বার্তা নিয়ে দিল্লিতে মোদি-ত্রিবেদী বৈঠক - MZamin
ঢাকার বার্তা নিয়ে দিল্লিতে মোদি-ত্রিবেদী বৈঠক

ঢাকার বার্তা নিয়ে দিল্লিতে মোদি-ত্রিবেদী বৈঠক

ফন্ট সাইজ:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। অনির্ধারিত এই বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার ঢাকা ছাড়েন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে ত্রিবেদী এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করলেন। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকার বর্তমান মনোভাবের বার্তা দিতেই ত্রিবেদীর আকস্মিক দিল্লি সফর। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকার অবস্থানও তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার রাতে বিমানে করে ঢাকা ছাড়েন দীনেশ ত্রিবেদী। তবে তার দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দীনেশ ত্রিবেদীই প্রথম ভারতীয় হাইকমিশনার, যাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত জুনে তাকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠায় বিজেপি সরকার। ২০২৪ সালে ঢাকায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া টানাপড়েন সামাল দিতে ত্রিবেদীকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেয়া যায়, সে লক্ষ্যেই ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী অংশের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাদের মতে, ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাধারণত ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ খুব বেশি দেখা যায় না।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এর আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে দিল্লি। বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। এর বাইরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়েও দুই দেশের আলোচনায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। ফলে চুক্তির নবায়নও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।