Warning: unserialize(): Extra data starting at offset 670227 of 670228 bytes in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 26
দিল্লিতে সাংসদদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা - MZamin
দিল্লিতে সাংসদদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

দিল্লিতে সাংসদদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

ফন্ট সাইজ:

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির পথে নেমেছিলেন বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। আর সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড তৈরি হয়েছিল পুলিশের বাধা দেয়ার ফলে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, পি চিদাম্বরম, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে কমিশনের ভবন থেকে ২০০ মিটার দূরে আটকে দেয়া হয়েছিল মিছিল। কমিশন পর্যন্ত পৌঁছতে না পেরে রাহুলরা ধরনায় বসে পড়েছিলেন নীতি আয়োগের সামনে। ব্যারিকেডের সামনে বাধা পেয়ে বেশ কিছু সাংসদ ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েছিলেন।

একসময় রাহুলও ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েছিলেন। ব্যারিকেডের উপরে বসে তেরঙ্গা ওড়াতে দেখা গেছে তাকে। পুলিশ বাধা দেয়ায় রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সাংসদরা। তাদের হাতে ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচান’, ‘আমার ভোট রক্ষা করুন’-এমন সব পোস্টার। বিরোধীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়েছেন- ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’। এরই মধ্যে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ কয়েকজন সাংসদ পাশের আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢুকে পড়েছিলেন। সেখানেই ধরনায় বসে পড়েছিলেন তারা। আকাশবাণী চত্বর থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রাহুল বলেছেন, “আমি এখানে আছি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। আমার সঙ্গে আরও ৩০০ জন সাংসদ এখানে এসেছিলেন। তারাও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চান। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদি, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।” তিনি বিজেপিকে ধ্বংস করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

রাহুল বলেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাদের সঙ্গে দেখা করতে ভয় পাচ্ছেন কেন? সাংসদরা দেখা করার দাবিতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেছেন।
এ দিনের প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন মমতাপন্থি তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কংগ্রেসের কে সি ভেনুগোপাল, এনসিপি (শরদ)-এর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, আরজেডি’র মনোজ ঝাসহ বিরোধী জোটের অন্য সাংসদরাও। ইন্ডিয়া জোটের ১৯টি দলের ৩০০ জন সাংসদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ডিএমকে ও আপ এই মিছিলে অংশ নেয়নি।

কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে বলেছেন, “আমাদের লড়াই অবিচারের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর আমরা যে সর্বজনীন ভোটাধিকার পেয়েছিলাম, সরকার তা খর্ব করার চেষ্টা করছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সরকারের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছেন। মোদি ও শাহ যা বলেন, তিনিও তা-ই করেন। এমনটা চলতে থাকলে একনায়কতন্ত্রের সূচনা হবে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।”

বিরোধীদের নির্বাচন সদন অভিযান ঠেকাতে দিল্লির রাস্তায় সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মোতায়েন ছিল তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ। দিল্লির বিভিন্ন মেট্রোস্টেশনের গেটের কাছেও অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল সংসদ ভবন, পার্লামেন্ট স্ট্রিটের আশপাশের এলাকা, নির্বাচন সদনের গেটের কাছেও। সংসদ ভবনের আশপাশের রাস্তায়, কমিশনের অফিসের বাইরে এবং সরকারি অফিসগুলোর কাছে বসানো হয়েছিল ব্যারিকেড।
মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়ার পরে কয়েক জন সাংসদ ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশের বাধা পেয়ে ব্যারিকেডের উপরে বসে তারা স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, “নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অতীতেও অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এবার তো পশ্চিমবঙ্গে ওরা পুরো নির্লজ্জের মতো আচরণ করেছিল।”

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে পড়েছিল। এদিনের মিছিলের উদ্দেশ্য ছিল, নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।
ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নিয়ে বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের সমাবেশের ডাকের মাধ্যমে ২রা অক্টোবর থেকে এই প্রতিবাদ মূলত শুরু হয়েছে। দেশব্যাপী চলছে বিক্ষোভ। তেলাপোকা পার্টি আগামী ১০ই অক্টোবর যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

এদিকে, উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি ইমরান মাসুদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদ থেকে ডিএমকে ও আম আদমি পার্টির মতো দলগুলোর দূরে থাকার সমালোচনা করে বলেছেন, গণতন্ত্রের এই লড়াইয়ে কোনো “মধ্যপন্থা” নেই। মাসুদ বলেন, যারা রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন না, তারা কার্যত বিজেপি’র পাশেই দাঁড়াচ্ছেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপি কেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সমর্থন করছে।