Warning: unserialize(): Extra data starting at offset 670227 of 670228 bytes in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 26
সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা জামায়াতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়: গোলাম পরওয়ার - MZamin

সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা জামায়াতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়: গোলাম পরওয়ার

ফন্ট সাইজ:

বিরোধীদল হিসেবে সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা আমাদের (জামায়াতের) রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয় বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্‌স এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ কথা বলেন তিনি। টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেও জানান- গোলাম পরওয়ার।

মতবিনিময়ে টেক্সটাইল খাতের প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান একটি গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চান। সরকারের যেসব উদ্যোগ জনস্বার্থে ও দেশের কল্যাণে হবে, সেসব কাজে সহযোগিতা করা হবে। আর যেসব সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী হবে, সেসব বিষয়ে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা সংরক্ষণ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও সংরক্ষণ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং অবৈধ আমদানি প্রতিরোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিল্পখাত প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসইভাবে শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা যাবে। দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ খাতের স্বার্থে বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শিল্প ও উৎপাদন খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে টেক্সটাইল খাতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ খাতের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার, বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আগামী ১৮ই নভেম্বর বস্ত্র ও পোশাকসংশ্লিষ্ট বাটেক্সপো মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার প্রধান অতিথি হওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে।

এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। এবার এ রীতির ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজে কোনো অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য দাবি বা অনুরোধ করেননি। ব্রিফিংয়ে বিটিএমএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বর্তমানে টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারের সঙ্গে এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে এবং কিছু সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলো নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বৈঠকে বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট ও আম্বার কটন মিল্‌স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পূর্বাণী ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকার, পরিচালক ও জালাল আহমেদ স্পিনিং মিল্‌স লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহিদ আলম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হোসেন ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিল্‌স লিমিটেডের (ইউনিট-২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন মেহমুদ, পরিচালক ও সায়হাম কটন মিল্‌স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক পরিচালক ও মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল্‌স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, এনডিসি, পিএসসি (অব.), জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জিয়াউল হাসান চৌধুরী এবং প্রেসিডেন্টের পিএস আরিফ রায়হান রবিন উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং মাইশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।