Warning: unserialize(): Extra data starting at offset 670227 of 670228 bytes in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 26
রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না - MZamin
রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না

রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না

ফন্ট সাইজ:

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের (রাজনৈতিক মীমাংসা) আলাপটা সরকারের দিক থেকে এন্টারটেইন (বজায়) করা কঠিন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। রিকনসিলিয়েশন নিয়ে সরকারের ভাবনাটা কী-জবাবে তিনি বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের বিষয়-আমরা দ্বিমত করি না। একটা রিকনসিলিয়েশন দরকার ছিল-এই আলাপগুলো ৫ই আগস্টের পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা পালিয়ে গেছেন তাদের কথা বলছি না। যারা এদেশে আছেন, এদের মধ্যে একটা পারসেন্টেজ, পারসেন্টেজটা কতো? সেই ডিবেট আমরা করতে পারি। সে ডিবেটে যাচ্ছি না। মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থন করে। সুতরাং এই দেশের নাগরিক তারা। স্টিল এই ঘটনার পর সমর্থন করে না।

সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাকটিভলি করেছেন, তাদের সঙ্গে একটা রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না। ভালো আইডিয়া। এটা হলে ভালো হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটা কী? কোন ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশন হয়। ফান্ডামেন্টালটা, আমরা সাউথ আফ্রিকায় যখন দেখেছি, কী হয়েছিল আসলে? রিকনসিলিয়েশনের বেসিকটা হচ্ছে-যেই গ্রুপ গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল, যেই হোক না কেন-সে যে অপরাধটা করেছে, সেই অপরাধের স্বীকৃতি থাকা, সেটা নিয়ে তাদের রিপেন্ডেন্স থাকা, অপরাধের স্বীকৃতি এবং রিপেন্ডেন্সের প্রশ্ন আছে। কারণ অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই আসলে ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। ওটার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন হতে হয়। সুতরাং আমরা ওই আলাপ করছিলাম, যদি ওই পরিস্থিতি হতো, তাহলে আসলে রিকনসিলিয়েশন আলাপ হতে পারতো। সেটার জন্য কারা কারা করবে, কীভাবে করবে, সেটা হতে পারতো।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা খুব অবাক হয়ে পাঁচ তারিখের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটা, সেই দলটার প্রধান নেত্রী তিনি এখনো, আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি একটা সময় তার বক্তব্য, পাঁচ তারিখের পর যখন প্রথম কথা বলতে শুরু করলেন, তখন শোনার চেষ্টা করেছি। তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন, যদি তাই হয়ে থাকে আসলে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশনের আলাপটা আমাদের দিক থেকে অন্তত এন্টারটেইন করা কঠিন।’

এদিকে, চাঁদাবাজিতে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে কিনা-এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সরকারের প্রশ্রয় দেয়ার কোনো কারণ নেই। আমি এই অভিযোগ উড়িয়েও দিতে চাই না যে, সরকারি দলের কেউ না কেউ এটার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এটা সরাসরি পদে থাকা বা নাম ব্যবহার করা-এই প্রবণতা নেই। আমি এ দেশে জন্মেচ্ছি, বড় হয়েছি- আমি জানি। প্রশ্নটা হচ্ছে-সরকার কী করছে, সরকারের উদ্দেশ্যটা কী। আমার মনে হয় সামপ্রতিক সময়ে মিরপুরে যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেটার পর যেভাবে সরকার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে আমার মনে হয় এতেই বার্তাটা খুব স্পষ্ট যে, সরকার আসলে এগুলো কোনোভাবে সহ্য করবে না। আমি বারংবার যে কথাটা বলার চেষ্টা করি, সেটা হচ্ছে জনগণ যদি কোনোভাবে সাফার করতে থাকে এবং সেটা যদি সরকারি দলের নামে হয়ে থাকে। তাতে যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিক ব্যবস্থা বা ত্বরিত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এটার মাসুল তো সরকারকে দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাকে আগের দিনও এটা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে। গতদিন আমি কোনোভাবেই বলিনি, আমাকে প্রশ্নটা একদম লিডিং জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, যৌথ বাহিনী অভিযানে নামছে কিনা। আমি জবাবে বলেছি- না। আমি বলেছি যে, পুলিশ বাহিনী যেভাবে কাজ করছে, পুলিশ বাহিনী সেভাবে কাজ করে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমপ্রতি জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে আরেক দফা মূল্য বেড়েছে। এই জিনিসগুলোর ক্ষেত্রে জনগণের কাছে আমাদের এপিল, আমি আগেও একদিন বলেছি যে, জনগণ যেন আমাদের সংকটা বুঝতে পারে। আমাদের সবকিছু ঠিকঠাক আছে মোটামুটি। এরপরও আমরা পারছি না। এরপরও নানান রকম অন্যায়ের কারণে জনগণ কষ্টে আছে। সেই জিনিসগুলো, আসলে জনগণ, সরকারকে মাসুল দিতে হবে। ‘ব্যক্তিগতভাবে মনে করি জ্বালানির ইস্যুটা যদি স্টেবল হয়, বাংলাদেশে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।