Warning: unserialize(): Extra data starting at offset 670227 of 670228 bytes in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 26
সিলেটে তিন দিনেই বদলে গেল দৃশ্যপট - MZamin

কিশোর গ্যাং

সিলেটে তিন দিনেই বদলে গেল দৃশ্যপট

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগরের সাগরদীঘির পাড়। পরিচিত একটি ওয়াকওয়ে। সন্ধ্যা নামলেই গোটা ওয়াকওয়ে চলে যেতো কিশোর গ্যাংয়ের দখলে। এক সময় ওই এলাকা ছিল চিহ্নিত অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে সেই আতঙ্ক এখনো আছে। কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি তাদের মধ্যে আরও উদ্বেগ বাড়ায়। ফলে ওয়াকওয়েতে হাঁটা-চলাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। রোববার রাতে সিলেট নগর পুলিশের একাধিক টিম ওই ওয়াকওয়েতে অভিযান চালায়। উপস্থিত ছিল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশির ভাগই পালিয়ে যায়। যাদের ধরা হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থাকায় সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। কয়েকজনকে আটক করা হয়। সোমবার রাতে একই সময় সাগরদীঘির পাড়ের দৃশ্যপট বদলে গেছে। কোথাও কোনো কিশোর গ্যাং নেই। আছেন কেবল চাকরিজীবী কিছু মানুষ। বেশির ভাগই হাঁটছেন। বৃদ্ধরাও আছেন হাঁটার দলে।

স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমান জানালেন- সন্ধ্যার পর ওয়াকওয়েতে হাঁটাই দায় ছিল। কিশোর গ্যাংয়ের শত শত সদস্য দাঁড়িয়ে থাকতো। আড্ডা দিতো। মাদক সেবন করতো। পুলিশের ভয়ে তারা না আসার কারণে এখন বৃদ্ধরাও এসে হাঁটছেন। সাংবাদিক রেজা রুবেল প্রতিদিনই ওই এলাকায় যাতায়াত করেন। জানালেন- সোমবার রাতে আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কোনো কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি পাননি। তিনি জানান- প্রধান সড়কগুলোতে না থাকলেও গলির ভেতর এখনো কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদিকে সিলেটে তিনদিনের অভিযানেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। রোববারের অভিযানের পর সোমবার ও মঙ্গলবার পরিচিত দৃশ্য আর নেই। ফলে অপরাধও কম। এই অভিযানে মাদক আস্তানাগুলোতেও আতঙ্ক নেমে এসেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে- রোববার রাত থেকে সিলেট নগরে কিশোর গ্যাং সহ অপরাধী ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। নগরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশে একসঙ্গে চালানো হচ্ছে এ অভিযান। প্রথমদিনের অভিযানে দুর্ধর্ষ অপরাধীরাও ধরা পড়ছে।

এখন থেকে প্রতিদিনই নগরের চিহ্নিত এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো হবে। এজন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছক সাজিয়েই আকস্মিক অভিযান চালাচ্ছে। গত দু’দিনে উত্তর ও দক্ষিণ অংশের অর্ধশতাধিক স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- কিশোর গ্যাং, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী সহ চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান। এ অভিযানে দুইদিনে প্রায় ৬০ জনের মতো আটক হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার রাতে নগরের এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় পুলিশের কয়েকটি টিম একসঙ্গে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে দেখা গেল ভিন্ন প্রেক্ষাপট। আম্বরখানা এলাকার সব প্রবেশমুখে দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি রয়েছে। রোববারের অভিযানের পর সোমবার কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানাগুলো ছিল ফাঁকা। এই সুযোগে হকাররা এসে দখলে নিয়েছিল এলাকা।

পুলিশ ওই সব এলাকায় ভিড় কমাতে হকারদের সরিয়ে দিয়েছে। পুলিশের অভিযানের কারণে অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায় আম্বরখানা এলাকা। খাসদবির এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অবস্থান ছিল আতঙ্কজনক। কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় বসবাসকারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দক্ষিণ সুরমায় খোজারখলা এলাকায় খেলতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। এতে এক কিশোর নিহতও হয়। সোমবার রাতে খাসদবির এলাকায় কিশোরদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। পুলিশের টিম খাসদবিরের পার্শ্ববর্তী বাদামবাগিচা এলাকায় প্রবেশ করে। এটিও অপরাধের পরিচিত আস্তানা। খাসদবির বাজার সহ আশপাশের পয়েন্টগুলোতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে তারা চলে যায়। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছিল চায়ের দোকানে। পুলিশ ওই এলাকায় থাকা কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। অন্য আরেকটি টিম লাক্কাতোড়া স্টেডিয়াম এলাকায় অভিযান চালায়।

সন্ধ্যা নামলেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক সেবনের জন্য ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। ওখানেও পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে। দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোড, কুছাই রুট সহ কয়েকটি স্থান হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থল। অনেকেই আবার কদমতলী মাজার রুটে অবস্থান নেয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিমও গেল তিনদিন ধরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এ সময় মাদকসেবী সহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- দক্ষিণ সুরমা হচ্ছে মাদক ও অপরাধের জোন। রেলওয়ে কলোনি সহ নদী তীরবর্তী কয়েকটি এলাকার গলিতে কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি রয়েছে। পুলিশের অভিযানে তারা মূল সড়ক থেকে সরে গেলেও গলিপথে আশ্রয় নিয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন- কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক সহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের অভিযানে অনেকেই আটক হচ্ছে। তবে বেশির ভাগই ঘরে ফিরছে। এখন অভিভাবকদের কাজ হচ্ছে তাদের ঘরে রাখা। সিলেটে পুলিশের এ সাঁড়াশি অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।