খুলনার রূপসায় ছেলে জয়ঢালী হত্যার একমাস ২০ দিন পর বাবা আক্তার ঢালী (৭৫) কে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় ঢালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ঢালী ওই এলাকার মতলব ঢালীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যার দিকে ঢালীসহ আরও কয়েকজন বাড়ির পাশে কাঠের তৈরি বেঞ্চে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ৩-৪টি মোটর-সাইকেলে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত হেলমেট পরিহিত অবস্থায় খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে।
গুলি তার ডান কান ভেদ করে বিপরীত দিক থেকে বের হয়ে যায়। এরপর স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য তারা আরও
তিন রাউন্ড গুলি করে। এ সময় স্থানীয়রা দিগ্বিদিগ হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ই আগস্ট রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের একটি চায়ের দোকানের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
ওই ঘটনায় জয়ের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে রূপসা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। ছেলের পর এবার পিতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে রূপসা থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে কিংবা ছেলে হত্যা মামলার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্ত আসছে। সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
