জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডে ঢাকার বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে ম্যাচ ড্র করেছে রংপুর বিভাগ। মিরপুরে অধিনায়ক আকবর আলীর লড়াকু হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রানে অলআউট হয় রংপুর। প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড পাওয়ায় ঢাকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৬ রান। তবে সময়ের স্বল্পতায় ৯ রান তুলতেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।
তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৩ উইকেটে ৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে রংপুর। দিনের শুরুতেই ঢাকার বোলারদের সামনে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে তারা। একপর্যায়ে ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়ে রংপুর। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন আকবর। এক প্রান্ত আগলে রেখে ১৩২ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন রংপুর অধিনায়ক। তার দৃঢ় ব্যাটিংয়েই মূলত ম্যাচে টিকে থাকার পথ তৈরি করে রংপুর। আকবরকে ভালো সঙ্গ দেন চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইকবাল হোসেন। রিজওয়ান ৬৯ বলে ২৭ এবং ইকবাল করেন ২০ রান। শেষদিকে মেহেদী হাসানের ১৩ রানে ১৪৯ পর্যন্ত পৌঁছায় রংপুর। ঢাকার হয়ে আরিফ আহমেদ নেন ৩ উইকেট। এনামুল হক ও তাইবুর রহমান শিকার করেন ২টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট পান রিপন মন্ডল, সুমন খান ও মার্শাল আইয়ুব। এর আগে রংপুরের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪০ রানের জবাবে ২৮৪ রানে অলআউট হয় ঢাকা। তাইবুর রহমান ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন। ফলে ৫৬ রানের লিড পায় রংপুর। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রান যোগ করে ঢাকার সামনে ২০৬ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ দিনের শেষ দিকে ৪.১ ওভারে বিনা উইকেটে ৯ রান করে ঢাকা। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ৭ ও আনিসুল ইসলাম ২ রানে অপরাজিত থাকেন। এরপরই সময় শেষ হওয়ায় ম্যাচটি ড্র হয়। ম্যাচ সেরা হন তাইবুর পারভেজ।
সাব্বিরের ফিফটি, ড্রয়ে শেষ চট্টগ্রাম-রাজশাহী ম্যাচ
জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ম্যাচটি ড্রয়ে শেষ হয়েছে। রাজশাহী ৮ উইকেটে ২২৮ রানে থামতেই দুই দল ড্র মেনে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে। দারুন বোলিং করে ম্যাচ সেরা হন চট্টগ্রামের স্পিনার হাসান মুরাদ।
এদিন ১৭ রানের লিড নিয়ে শেষ দিনে ব্যাট করতে নামা রাজশাহী শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২২৪ রান করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন সাব্বির। ১১২ বলের ইনিংসে দুটি চার হাঁকান এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। প্রথম ইনিংসেও ৩৫ রান করেন তিনি। তৃতীয় দিন শেষে ১৪ ওভারে ২ উইকেটে ৪৬ রান করেছিল রাজশাহী। শেষ দিনে আরও ১৭৮ রান যোগ করে তারা। সাব্বিরের সঙ্গে নাঈম আহমেদ ৪৭ ও প্রীতম কুমার ৩৭ রান করেন। শেষদিকে নিহাদ উজ জামান ১৫ ও আলী মোহাম্মদ ওয়ালিদ ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। চট্টগ্রামের হয়ে আশরাফুল হাসান ও হাসান মুরাদ নেন তিনটি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মুরাদ। এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৩৬৪ রান করেছিল রাজশাহী। জবাবে চট্টগ্রামকে এগিয়ে দেন দুই সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। জয়ের ১০৫ এবং সাদিকুরের ১১৫ রানে ভর করে ৩৯৩ রান করে চট্টগ্রাম।
সিলেটে মাহফিজুলের সেঞ্চুরি
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়েই নামা হয়নি সিলেটের। ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করার পর সিলেট করে ৩২৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ময়মনসিংহ ৩২৭ রানে অলআউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচ অমীমাংসিত রেখে শেষ হয়ে যায় শেষ দিনের খেলা। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন তৃতীয় দিন শেষে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকা ময়মনসিংহের মাহফিজুল ইসলাম। ১৯৭ বলে ঠিক ১০০ রান করে নাঈম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম ৪০ ওভারে ১১৯ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ময়মনসিংহের আরিফুল ৭২ ও আব্দুল মজিদ ৮৭ রান করেন।
