দুবাইয়ে প্রচণ্ড গরম। তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টেস্টে ম্যাচে দিনের বেলায় গরম সামলানো তাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন পেসার ইবাদত হোসেন। ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেন ইবাদত। প্রচুর পানি ও বিভিন্ন ধরনের তরল পান করার পাশাপাশি বেশি করে ফল ও ডাবের পানি খান তিনি। তবে তার প্রস্তুতির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী অংশ হলো, দুবাইয়ে পৌঁছে অনুশীলনের প্রথম দিন ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা খালি পায়ে মাঠে হাঁটা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো এক ভিডিওতে ইবাদত বলেন, ‘ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই আমি প্রস্তুতি শুরু করি। শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সেজন্য প্রচুর পানি ও বিভিন্ন ধরনের তরল পান করি। ডাবের পানি পান করি এবং বেশি করে ফল খাই।’
দুবাইয়ের আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই পেসার। তার মতে, খেলোয়াড়দের সেখানে যাওয়ার আগে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। ইবাদত বলেন, ‘এখানে আর্দ্রতা ও গরম কেমন, সেটা আগে থেকে জানা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আসার পর প্রথম দিনের অনুশীলনে আমি ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা খালি পায়ে মাঠে হাঁটি।’ কেন এমন করেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি বলেন, ‘এতে মাটির সঙ্গে একটা সংযোগ তৈরি হয়। মানবদেহ ও মাটির মধ্যে সংযোগটা আরও ভালো হয়। শরীরও আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।
এখানে আসার পর খালি পায়ে মাঠে হাঁটলে শরীর দ্রুত আবহাওয়া ও গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।’ বাংলাদেশ দল ১লা অক্টোবর দুবাইয়ে পৌঁছেছে। এরপর আইসিসি একাডেমি মাঠে কয়েক দিন অনুশীলন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে তারা। ম্যাচটি ড্র হয়েছে। আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। ওপেনিং জুটিতে ১০৮ রান এলেও পরের দিকে ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামে। সৌম্য সরকার অপরাজিত ৫৭ রান করেন। সাদমান ইসলাম করেন ৪৬, নাঈম হাসান ৩৬ এবং মুমিনুল হক ৩৩ রান।
ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও বল হাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। রিজার্ভ পেসার ইকবাল হোসেন ইমন মাত্র ৬ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে আমিরাতের ব্যাটিংয়ে ধস নামান। ৫৩.৫ ওভারে ২২২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। তাইজুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট। ইবাদত ও খালেদ আহমেদ পান একটি করে উইকেট। আমিরাতের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন মুহাম্মদ ওয়াসিম। ৭৬ বলে ৬৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১২ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৪ রান করার পর ম্যাচ শেষ হয়। বাংলাদেশের জন্য এই প্রস্তুতি ম্যাচের মূল লক্ষ্য ছিল ফল নয়, বরং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া। ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কিছু জায়গায় চিন্তার কারণ হলেও বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানো স্বস্তি দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দুবাইয়ের তীব্র দিনের গরমে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রস্তুতিতে আবুধাবিতে যাবে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমস থেকে ফেরা ক্রিকেটারদের মঙ্গলবার টেস্ট দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার কথা।
