Warning: unserialize(): Extra data starting at offset 670227 of 670228 bytes in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 26
ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে কী করবেন মেসি - MZamin
ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে কী করবেন মেসি

ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে কী করবেন মেসি

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিয়েছেন। সবুজ গালিচায় জাদুকরি অধ্যায়ের শেষভাগে লিওনেল মেসির দৃষ্টি মাঠের বাইরে- ব্যবসা, ক্লাব মালিকানা এবং আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের লালন করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায়। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে মেসির ইন্টার মায়ামি অধ্যায়ের পরের জীবনের এক আকর্ষণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক চিত্র। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলতে নামেন রেকর্ড গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এই মহাতারকা। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমার দেয়ার মতো আর কিছুই নেই।’ কোচ লিওনেল স্কালোনি যতই বলুন না কেন যে মেসি চাইলে মত বদলাতে পারেন, তবে আপাতত সেই দরজা বন্ধ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ ক্যারিয়ার সচল থাকছে তার। শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস থাকলে এই চুক্তি বাড়তেও পারে।

ক্লাব মালিকানা ও নতুন পরিকল্পনা
কোচিংয়ের জটিলতা ও ঝামেলার জগৎ এড়িয়ে মেসি বেছে নিয়েছেন ক্লাব মালিকানার দূরদর্শী পথ। এ বিষয়ে তিনি নিজেই নিজের পরিকল্পনা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কোচরা প্রতি শনিবারে বাঁচেন আর মরেন। তাদের অনেক কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয়। তবে মালিকরা ক্লাবকে একটু দূর থেকে সঠিক দিশা দেখান।’ ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় এরই মধ্যে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। বার্সেলোনার উপকণ্ঠের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ইউই কর্নেয়া তিনি কিনে নিয়েছেন গত এপ্রিলে। এছাড়া স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব সিডি এলদেন্সের নতুন মালিক হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এলদেন্সে ক্লাবটি তার ফুটবল কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র হবে। এই ক্লাবগুলোকে তিনি বিশ্বস্ত মানুষদের দিয়ে পরিচালনা করাচ্ছেন। মায়ামির চুক্তি অনুযায়ী অবসরের পর এ ক্লাবটির কিছু শেয়ারও তার আওতায় থাকবে। আবার উরুগুয়েতে বন্ধু লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত দেপোর্তিভো এলএসএম ক্লাবটি তাদের প্রথম মৌসুমেই তৃতীয় ডিভিশনে উন্নীত হয়েছে, যা তার মালিকসুলভ দক্ষতারই প্রমাণ দেয়।

যুব ফুটবলের প্রতি বিশেষ টান ও ‘মেসি কাপ’
খেলোয়াড় তৈরি এবং যুব ফুটবলের প্রতি মেসির দুর্বলতা আগে থেকেই। নিজের সন্তানের খেলা বা ‘মেসি কাপ’-এ নিয়মিত উপস্থিতি তারই প্রমাণ। এই টুর্নামেন্টে ১৬টি অনূর্ধ্ব-১৬ একাডেমি অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, চেলসি, বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলানের মতো জায়ান্টরাও রয়েছে। ফ্লোরিডায় মায়ামির ফ্যাসিলিটিতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে গত বছর প্রথম সারির প্রতিটি ম্যাচ গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন মেসি, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বড় হচ্ছে ব্যবসার সাম্রাজ্য
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে মেসির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১০ কোটি ডলার। এর পেছনে রয়েছে তার সুসংগঠিত ও বহুমুখী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। অ্যাডিডাসের সঙ্গে আজীবন চুক্তির পাশাপাশি তার রিয়েল এস্টেট ও হোটেল ব্যবসায় মেসির বড় বিনিয়োগ রয়েছে। ইবিজা থেকে অ্যান্ডোরা পর্যন্ত ছয়টি বুটিক হোটেলের চেইন ‘এমআইএম হোটেলস’-এর মালিকানা রয়েছে তার। রোজারিওতে ‘কার্লাসকো এম’ হাউজিং প্রজেক্টে তার পরিবার বিনিয়োগ করেছে, যেখানে বন্ধু আনহেল ডি মারিয়ার প্রপার্টি এজেন্সি বিক্রির দায়িত্ব সামলাচ্ছে। এছাড়া ড্রিংকওয়্যার জায়ান্ট স্ট্যানলির সঙ্গে তার ‘মেটে’ কালেকশন এবং কাতালুনিয়ায় ‘এল ক্লাব দে লা মিলানেসা’ রেস্তোরাঁ চেইনের সমপ্রসারণ তার ব্যবসায়িক মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়। গত আগস্টে মৃত্যুবরণ করেন তার পিতা হোর্হে মেসি । বাবার দেখানো পথ ধরেই আজ এই বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন তিনি। টিভি প্রোডাকশন থেকে শুরু করে মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ-সবকিছুই এখন বিশ্বস্ত সহযোগীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মায়ামির একটি বিজনেস ফোরামে মেসি নিজেই তার ব্যবসায়িক আগ্রহ নিয়ে বলেছেন, ‘ব্যবসা এমন একটি বিষয় যা আমাকে টানে। আমি আরও শিখতে চাই, কারণ আমি এখনো একেবারে শুরুতেই আছি।’