ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আবারো চরম বিতর্ক ও সংকট দেখা দিয়েছে। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জন্মসূত্রে ফরাসি গোলকিপার লিওনেল এমপাসিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে খেলায় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। অথচ ফিফার গোপন সিদ্ধান্তের পরও কোনো কঠোর শাস্তি ছাড়াই তাদের বিশ্বকাপে খেলতে দেয়া হয়েছে। এমনকি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচেও মাঠে নামে তারা।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নিয়মনীতি ও ফিফার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দেয়। ডিআর কঙ্গোর এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের স্ক্যান্ডালের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অযোগ্য বা অনিবন্ধিত খেলোয়াড় খেলালে সংশ্লিষ্ট দলের ম্যাচ জব্দের বিধান থাকলেও রহস্যজনকভাবে ছাড় পেয়ে যায় কঙ্গো। আফ্রিকা অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনালে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় কঙ্গো। ম্যাচটিতে এমপাসির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নাইজেরিয়ার করা অভিযোগ ফিফা আইনিভাবে খারিজ করে দিলেও অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ভিন্ন কথা বলছে। ২০২১ সালে ফ্রান্স থেকে কঙ্গোয় খেলার জন্য দল বদল সংক্রান্ত যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তবে ফিফার আইন বিভাগ বিষয়টি জানলেও তা ধামাচাপা দেয়া হয়।
সমালোচকদের মতে, কঙ্গো ফুটবল প্রধান ভেরন মোসেনগো-ওম্বা ইনফোন্ত্রির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এমন নমনীয়তা দেখানো হয়েছে। মে মাসে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে দায়িত্বে আনা হয়। এর আগে বালোগানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে শাস্তি শিথিল করার অভিযোগ ওঠে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। এছাড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা কমানোর ঘটনাও ফিফার নিরপেক্ষতাকে গভীর সংকটের মুখে ফেলে।
নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের পদত্যাগ করা সভাপতি ইব্রাহিম মুসা গুসাউ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা কেবল চুপ করে ছিল। কারণ তারা জানে এটি তাদের জন্য বড় ধরনের সংকটের জন্ম দেবে।’
কঙ্গোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ফিফার কার্যপ্রণালী নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। ইনফান্তিনোর একক সিদ্ধান্ত ও একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এখন নিজেদের অস্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
