পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে মঙ্গলবার উপ-নির্বাচনের ভোট নিয়ে বিরোধীরা মারধর, বাধাদান, গ্রেফতার ও ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।
এদিন সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। শাসকদলের দাবি, দুই বিধানসভায় উপনির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভোটদানের পর বলেন, উপনির্বাচনে সাধারণত কম ভোট পড়ে। তবে নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমি নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলাম। আমার বিশ্বাস এবারও রেকর্ড ভোটে জিতবে বিজেপি।
তবে নন্দীগ্রামে কারচুপির অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। রেজিনগরে ভোট লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। দুই আসনেই পুনর্র্নিবাচনের দাবি করেছেন তারা।
পুনর্র্নিবাচনের দাবিতে সরব হয়েছেন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। রেজিনগর থানার সামনে অবস্থানে বসেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। উপনির্বাচন বাতিল করে পুনর্র্নিবাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনিও।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের নামে প্রহসন হচ্ছে। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, কোথাও তাদের এজেন্ট নেই, সকলকে তাড়িয়ে অবাধে ছাপ্পা চলেছে নন্দীগ্রামে।
অভিযোগ, পুরো বিধানসভায় রিগিং করে ভোট করেছে বিজেপি। একই অভিযোগে রেজিনগরে সরব হয়েছেন বিরোধীরাও। যদিও দুই জায়গাতেই সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজেপি।
এদিন সকালেই রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হুমায়ুন প্রার্থী নন, তিনি এজেন্টও নন। তাই বুথে বুথে ঘুরতে পারেন না। সেই কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতিকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভোটে অশান্তি করার অভিযোগ।
এর আগে সকালে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে হুমায়ুন কবীর যে অভিযোগ করেছিলেন, বেলা গড়াতে সেই অভিযোগে একসঙ্গে সরব মমতা তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং সিপিআইএম। একত্রে পুনর্র্নিবাচনের দাবি জানিয়েছে মমতা তৃণমূল এবং কংগ্রেস।
