ভারতীয় নারী ক্রিকেটের সোনালী যুগের এক অবিসংবাদিত অধ্যায়ের ইতি ঘটলো। দেশের জার্সিতে ইতিহাস গড়া প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়, এশিয়া কাপের মুকুট পুনরুদ্ধার এবং সর্বশেষ এশিয়ান গেমসের সোনা জয়ের পর তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন হারমানপ্রিত কৌর। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা স্পষ্ট করেছেন, পদের কোনো মোহ নেই। এখন থেকে তিনি স্রেফ ক্রিকেটের প্রতি গভীর ভালোবাসার টানেই মাঠে নেমে পড়বেন।
গত বছর ঘরের মাঠে হারমানপ্রিতের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্বাদ পায় ভারত। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় সোনা জয়ের গৌরব অর্জনের পর গুয়াহাটিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও কোচ অমল মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আবেগঘন এক বার্তায় হারমানপ্রিত লেখেন, ‘এটা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা স্মৃতি, আবেগ ও ত্যাগ। এই দলকে এবং ভারতীয় নারী ক্রিকেটকে আমি সবকিছু দিয়েছি-আমার রক্ত, আমার ঘাম, আমার সময়।’
কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, ‘একজন অধিনায়ক হিসেবে আমাকে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যেগুলোর জন্য কখনো ব্যক্তিগত মূল্যও দিতে হয়েছে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল দলকে আরও ভালো করে তোলা এবং সতীর্থদের সেরা হতে সাহায্য করা।’
বিদায়বেলায় তার মনে কোনো আক্ষেপ নেই, বরং রয়েছে প্রাপ্তির গভীর তৃপ্তি। হারমানপ্রিত লেখেন, ‘আজ আমি অধিনায়কত্ব ছাড়ছি আবেগাপ্লুত হৃদয়ে, তবে শান্তি নিয়েও। দল এখন দারুণ এক অবস্থানে আছে। আমি আমার সর্বোচ্চ কর্তব্য পালন করেছি।’
২০১২ সালে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম নেতৃত্ব দেয়া হারমানপ্রিত মোট ৫টি টেস্ট, ৫১টি ওয়ানডে এবং রেকর্ড ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দল সাফল্যের ধারায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাটিংয়ের অধারাবাহিকতা এবং বয়স নিয়ে ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন ছিল। তবে নির্বাচক কমিটিতে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
অধিনায়কত্বের যুগ শেষ হলেও হারমানপ্রিতের ব্যাট থামছে না। নিজের নতুন পথচলার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, ‘অধিনায়কত্ব হয়তো আজ শেষ হলো, তবে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালোবাসা ফুরোবে না। এখন আমি আবার স্রেফ খেলার ভালোবাসার টানে খেলতে প্রস্তুত।’
