বাংলাদেশ সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে হবে ভারতকে

দ্য হিন্দুকে হুয়ামুন কবির

বাংলাদেশ সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে হবে ভারতকে

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের সদ্য নির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো ভারতকে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘স্ট্রাটেজিক অটোনমির’ (কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন) গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের সংবাদপত্র দ্য হিন্দুকে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনায় ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ এর এক ফাঁকে দ্য হিন্দুর প্রশ্নের জবাবে বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারতের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এ সময় তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রশংসা করেন। বলেন, তিনি ভালো ভূমিকা পালন করছেন। দিল্লি তার মতামতের গুরুত্ব দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরটি দ্বিপক্ষীয় হবে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সংলাপের মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জটি হলো—শেখ হাসিনা ও তার দল দিল্লিতে অবস্থান করছে। তারা দিল্লিতে বসে একটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এটিও ভারতের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনছে না। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ আনেন হুমায়ুন কবির। তিনি তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ১৫ বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত প্রক্রিয়ায় মানুষ জীবন দিয়েছেন। তাই অতীতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন। তবে ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং ঢাকায় তা স্বাগত জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। ভারত তাদের (শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের) নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। দুই দেশের মধ্যে এটাই স্বাভাবিক রীতি। তারা যদি নিয়ন্ত্রিত থাকেন, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে না।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য সম্পর্ক অগ্রাধিকারে আছে বলেও জোর দেন তিনি। বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর একটি অনুকূল সময়ে হবে এবং আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে, তিনি ভারত সফরে যাবেন না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, এখানে ভারতীয় হাইকমিশনার ভালো ভূমিকা পালন করছেন। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আশা করছি, দিল্লি তার মতামতকে গুরুত্ব দেবে। তারা যদি তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমরা সব বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের পরামর্শ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে ‘বাধা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য কিছু ‘পারস্পরিক সহযোগিতা’ প্রত্যাশা করে ঢাকা। তিনি বলেন, দুই সরকার যখন জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধান করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করার সুযোগ দেবে না বাংলাদেশ। একই ধরনের পদক্ষেপ ভারতও নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

দ্য হিন্দুর সঙ্গে আলাপকালে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ ধারণাটির ব্যাখ্যা করে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিটি দেশই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। ভারতও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। বাংলাদেশও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। এই ধারণাটি মূলত আমাদের কী প্রয়োজন, সেটিকে ঘিরে।