প্রথম আলো
‘প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু: দিনে গড়ে ১৪টির বেশি মরদেহ দেশে এসেছে’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, কম্বোডিয়ার টাইলস কারখানায় কাজ করতেন পাবনার আল আমিন। কাজের সময় শতাধিক টাইলসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে আসে তাঁর মরদেহ। তিনি মারা যান ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল। মরদেহ দেশে আসতে সময় লেগে যায় প্রায় দেড় বছর।
মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় এসে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করে আল আমিনের শ্যালক মাসুম খান।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কম্বোডিয়ায় দূতাবাস নেই। কল্যাণ বোর্ড থেকে আবেদনটি পাঠানো হয় থাইল্যান্ডে। মরদেহটি কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করতে পারেনি দূতাবাস। এটি জানতে পেরে তিনি প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশটির স্থানীয় পুলিশের নম্বর সংগ্রহ করে কল্যাণ বোর্ডকে সহায়তা করেন।
মরদেহ আনতে এমন হয়রানির ঘটনা অহরহ নয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি বলছে, বিদেশে প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। সৌদি আরবে কিছু কর্মীকে দাফন করা হয় স্থানীয়ভাবে। তবে অধিকাংশ মরদেহ দেশে আনতে চায় পরিবার। নিয়মিত কর্মী হলে মরদেহ মোটামুটি সময়মতো দেশে আসে; কিন্তু কর্মী কোনো কারণে অনিয়মিত হয়ে গেলে (বৈধ কাগজ না থাকা) দীর্ঘ সময় লেগে যায় মরদেহ আনতে।
প্রবাসে কোনো কর্মী মারা গেলে তাঁর মরদেহ দেশে আনার দায়িত্ব নেয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মরদেহ আনার আগে একাধিক দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এতে কিছুটা সময় লেগে যায়। তবে এটি আগের চেয়ে কমেছে; আর যেসব দেশে দূতাবাস নেই, সেখান থেকে মরদেহ আনতে বেশি সময় লাগে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৬৫১ প্রবাসীর মরদেহ আসে দেশে। ২০২০ সালে এটি কমে হয় ৩ হাজার ১৪০ জন। মূলত করোনা মহামারির সময় অনেকে মরদেহ দেশে না এনে স্থানীয়ভাবে দাফন করেন। ২০২১ সাল থেকে দেশে আসা মরদেহ বাড়তে থাকে। করোনাকাল বাদ দিয়ে সাধারণ সময় মৃতের ১ শতাংশের কম দাফন হয় গন্তব্য দেশগুলোতে।
এ বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে ৪ হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে। এ বছর দেশটিতে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার। যদিও বিদেশে বৃহত্তম কর্মসংস্থান হলো সৌদি আরব। এ বছরও সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন দেশটিতে। এরপর সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা গেছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে আড়াই বছর ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে আছে।
অভিবাসন খাত নিয়ে নিয়মিত কাজ করে, এমন বেসরকারি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মী যে দেশে মারা যান, সেখান থেকে মৃত্যুর একটি কারণ লিখে পাঠানো হয়। রোগসহ স্বাভাবিক মৃত্যু দেখানো হয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, খুন, আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগ আছে; কিন্তু বিদেশে কর্মীদের মৃত্যুর কোনো কারণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয় না। এভাবে দায়সারাভাবে মৃত্যুর কারণ বলে দেওয়াটা পরিবারের জন্য অসম্মানজনক।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ১ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রবাসীদের চিকিৎসাসহায়তা বাড়ানো হয়েছে। মৃতদেহ দ্রুত দেশে আনতে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। যাঁরা অনিয়মিত কর্মী, তাঁদের মরদেহ আনতেও সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিদেশে মৃত্যুর কারণ যাচাই করতে করণীয় ঠিক করা হবে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, মৃত্যুর পর কর্মীর পরিবার থেকে আবেদন করতে হয়। কর্মী যদি দেশ থেকে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে থাকেন বা বিদেশে যাওয়ার পর দূতাবাস থেকে সদস্য নিবন্ধন নেন; তাহলে তাঁর মরদেহ আনার খরচ কল্যাণ বোর্ডের। এর কোনোটি না থাকলেও বোর্ডে আবেদন করতে পারে পরিবার। সে ক্ষেত্রে বোর্ড থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে মরদেহ দেশে আনতে খরচ দেওয়া হয়, এটি প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ থাকে।
দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৬ শতাংশের বেশি
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আগে প্রায় ৭০ শতাংশ মরদেহের সঙ্গে আসা কাগজপত্রে কারণ হিসেবে স্বাভাবিক মৃত্যু লেখা থাকত। এ বছর প্রথম ৯ মাসে ৬৬ শতাংশের মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক উল্লেখ করা হয়েছে; আর দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে বাকি ৩৪ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।
মোট মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা, কাজের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া ও বিদ্যুতায়িত হয়ে এ বছর মারা গেছে ১৬ শতাংশের বেশি।
এর আগে ২০২৩ সালে প্রবাসে মৃত কর্মীদের পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ১৮ হাজার ১৬৬টি মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া ও বৈদ্যুতিক শকে মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, ২ হাজার ৬৪৯ জন। সব মিলিয়ে ২০ শতাংশের বেশি প্রবাসী মারা যান কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। কর্মক্ষেত্রে আসা–যাওয়া ও কাজের সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নোয়াখালীর ফয়েজ আহম্মেদ ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করতেন। সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছিলেন ছোট ভাই সুজন আহম্মেদ। দুজন মিলে একই গাড়িতে করে খেজুর পরিবহনের কাজ করতেন। গত ১৬ জুলাই এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দুই ভাই। ২৮ জুলাই দেশে আসে মরদেহ। তাঁদের বাবা আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ সব শেষ হয়ে গেল। মরদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে কল্যাণ বোর্ড।
দেশে আসা প্রতিটি মৃতদেহ দাফনে ৩৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেয় কল্যাণ বোর্ড। এরপর তিন লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এর বাইরে এখন জীবন বিমার সুবিধা পায় কর্মীর পরিবার; আর বিদেশে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি থাকলে তা দূতাবাসের মাধ্যমে আদায় করে দেওয়া হয়। মৃত কর্মীর বকেয়া থাকলে তা-ও আদায়ের উদ্যোগ নেয় দূতাবাস। কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, এ বছর প্রথম ৬ মাসে মরদেহ দাফনে ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে; আর আর্থিক অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৬১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কর্মীদের বিমাসুবিধা দেওয়া হয়েছে ৪৪ কোটি টাকার বেশি। বিদেশ থেকে ক্ষতিপূরণ, বকেয়া ও বিমা আদায় করে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।
কর্মীদের আর্থিক অনুদান, ক্ষতিপূরণ, বিমাসুবিধা আদায় নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবেদন করার পর দিনের পর দিন কল্যাণ বোর্ডে ঘুরতে হয়। কারও কারও সহায়তা পেতে পেতে পরিবারের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়; আর বিদেশ থেকে সব হারিয়ে ফিরে আসা অনিয়মিত কর্মীরা সরকারের এসব সুবিধা পান না।
কারণ জানা গেলে কমতে পারে মৃত্যু
অভিবাসন খাতের গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ করে মূলত অবকাঠামো নির্মাণ খাতে। দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপের মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়। এতে তাপজনিত নানা রোগে শুধু কিডনি নয়, মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দেশে তাপ আরও বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত তাপ। প্রচণ্ড তাপ ও সূর্যালোকে দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। যে জন্য আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। দিনে ও রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি শরীরে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্বাসতন্ত্র, হৃদ্রোগ, বহুমূত্র ও কিডনির রোগের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে অকালমৃত্যুও ঘটে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব মৃত্যুর কারণ জানা গেলে প্রতিরোধে নানা ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে বিএমইটি প্রশিক্ষণ দেয়। এতে গন্তব্য দেশের নিয়মকানুন, আচার-আচরণসহ নিরাপত্তা সচেতনতা বিষয়ে বিদেশগামী কর্মীদের ধারণা দেওয়া হয়। এটি মাত্র তিন দিনের কর্মশালা, যাতে কোনো কিছুই ভালো করে শেখানো হয় না। যে দেশে কাজে যাচ্ছেন, সে দেশের কাজের ধরন, পরিবেশ ও চাপ সামলানোর কৌশল, কর্মঘণ্টা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাসহ কীভাবে ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়, তার প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।
ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর মৃত্যু বাড়ছে। ২৫ থেকে ৩০ বছরের যুবকেরাও মারা যাচ্ছেন। ৭০ শতাংশের বেশি মরদেহ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, সৌদি থেকেই বেশি। প্রতিটি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ জানা গেলে মৃত্যু কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার; আর জীবনযুদ্ধে লড়াই করা নারীরা বিদেশে যান। তাঁদের আত্মহত্যার কারণগুলো অবশ্যই জোরালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, মরদেহ দেশে আনতে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা যাবে না। অনিয়মিত কর্মী হলেও তাঁর মরদেহ আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ছোট ভুলে বড় ক্ষতি বিএনপির’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সততা, সংযম ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি দিয়ে কাজ শুরু করেছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়া হয়েছে একের পর এক ইতিবাচক উদ্যোগ। সরকারি ব্যয় কমানো থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়ানো, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধে চলাফেরা ছাড়াও তার বিভিন্ন পদক্ষেপ জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু দলের তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীর ‘ছোট ভুল’ই বড় হয়ে উঠছে। কারণ এতে দলের ক্ষতিটা হয়ে যাচ্ছে বড়। চাঁদাবাজি, দখল, আধিপত্য বিস্তার, সংঘাত কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনায় স্লান হচ্ছে সরকারের অর্জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বের বড় সাফল্যকে ঢেকে দিচ্ছে মাঠের ছোট ছোট ভুল। এতে শুধু বিএনপির সাংগঠনিক ভাবমূর্তিই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারও।
সর্বশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা এর বড় উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের এক নেতার সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। জনমনে বার্তাটা এমনভাবে গেছে যে, ভুলটা যেন ছাত্রদলেরই। অথচ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শিবিরের এক নেতার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে এমন পরিস্থিতি সামলাতে আরও পরিণত ও কৌশলী হওয়া প্রয়োজন ছিল বিএনপির।
একইভাবে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো নেতার বক্তব্য ঘিরেও বিএনপির অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া প্রশ্ন তৈরি করছে। অনেকের মতে, তার ওপর হামলা যেই করুক, এখন দোষটা বিএনপির কাঁধেই চাপছে। তাই তার মতো ব্যক্তিকে নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া বা তাকে এড়িয়ে যাওয়াই বিএনপির যথাযথ কৌশল হতো বলে অনেকে মনে করছেন। তাদের মতে, পালটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পাটওয়ারীকে আরও আলোচনায় আনার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এতে উলটো বিএনপিকেই আক্রমণাত্মক হিসাবে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে বিরোধীরা।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী মনে করেন, অতীতে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও সহিংস রাজনীতি দেখা যেত। নতুন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছেন, তাই এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তিনি বলেন, মতভেদ বা সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করা বা আইন হাতে তুলে নেওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল; যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো দল কিংবা সংগঠনের অভিযোগ থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হয়। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপি নেত্রী পদত্যাগী সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠজনদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডে হামলা ও দখলচেষ্টার ঘটনায়ও রাজনৈতিকভাবে বিএনপির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন আরও কিছু ঘটনায়ও দলটির কিছু নেতাকর্মীর নাম জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষোভ আছে বিএনপির ভেতরেও।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি কোনো ভুলকেই ছোট করে দেখছে না। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি। দলের যেসব নেতাকর্মী দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি আমাদের দলীয় সংরক্ষিত আসনের একজন এমপির পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অপরাধীর দলীয় পরিচয় দেখা হচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা বলে আসছেন। বক্তৃতা-বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কথাও বারবার বলছেন তিনি। ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফেরার সময়ও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। বড় ধরনের জনসভা বা সংবর্ধনার আয়োজন না করে রাজধানীর বাইরে ৩০০ ফিট এলাকায় সংক্ষিপ্ত ও সুশৃঙ্খল উপস্থিতির মাধ্যমে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। নেতাকর্মীদের তখন স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না।
সরকারি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় পরামর্শক ব্যয় কমানো, সংসদ-সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তসহ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কমানোর উদ্যোগ জনমনে প্রশংসা পেয়েছে। বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলের সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন, প্রধানমন্ত্রী একক নেতৃত্বে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুর তৈরি করেছেন। কিন্তু এসব অর্জনের মাঝেই নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। দলের একজন নেতার ভুল বক্তব্য কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের একটি সংঘাত মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারের বড় অর্জনগুলো এতে আড়ালে চলে যাচ্ছে।
ক্ষমতায় আসার গত সাড়ে সাত মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে দলের একটি অংশের বিরুদ্ধে। কোথাও স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব, কোথাও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। কোথাও আবার দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাঠের বাস্তবতা নিয়ে জনমনে অস্বস্তি আছে।
কালের কণ্ঠ
‘বিমান যেন উড়ন্ত চোরাই সোনা’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আকাশে ওড়ে হাজার হাজার উড়োজাহাজ। পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু—নানা প্রান্তে এগুলোর গন্তব্য।
এর মধ্যে বাংলাদেশের মাটি ছুঁতে ছুটে আসা উড়োজাহাজগুলো ঘিরেই যেন অন্তহীন কৌতূহল। কেননা আকাশে উড়ে চলা এসব বিমানের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে সোনার রহস্য। এই রহস্যের জাল ছিঁড়তে তল্লাশি চালালেই দেখা যায়, টয়লেটের প্যানেলে কিংবা আসনের নিচে লুকিয়ে আছে চকচকে সোনার বার। যাত্রীর পায়ুপথ থেকে শুরু করে উড়োজাহাজকর্মীর বেল্ট-জুতায় সুনিপুণভাবে সোনা লুকিয়ে রাখার মতো চমকানো ঘটনাও উন্মোচিত হয়েছে।
এভাবেই বাংলাদেশের মানচিত্রে ছুটে আসা উড়োজাহাজগুলো হয়ে উঠেছে অবৈধ সোনার বাহন। নীল আকাশজুড়ে এই ‘সোনালি’ কারবারে কারা জড়িত, বহুদিনের সেই রহস্য ভেদ করতে মাঝেমধ্যেই জেগে ওঠেন গোয়েন্দারা। কিন্তু তাঁদের চমকে দিয়ে কারবারিরাও ধরছে নতুন নতুন কৌশল। ফলে একের পর এক বড় চালান ধরা পড়লেও থামানো যাচ্ছে না সোনা চোরাচালানের গতি।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরো বিস্ময়কর চিত্র। দেশে নতুন সোনার বার্ষিক চাহিদা যেখানে আনুমানিক ১৮ থেকে ৩৬ টন, সেখানে শুধু ব্যাগেজ রুলসের সুবিধায় বৈধভাবে আসছে এর চেয়ে বেশি। ২০২২ সালে এক বছরেই এভাবে দেশে ঢুকেছিল ৫৪ টন সোনা। এর বাইরে বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিত ধরা পড়ছে অবৈধ চালান। আবার অবৈধ সোনার বড় অংশই থেকে যাচ্ছে নজরদারির বাইরে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, চাহিদার চেয়ে বেশি আনা সোনার গন্তব্য কোথায়। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, বৈধ বা অবৈধ পথে দেশে আসা সোনার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে, বিশেষ করে ভারতে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শুল্কসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার তদন্তেও বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতে সোনা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, দেশটিতে ব্যাগেজ রুলসে সোনা আনায় কড়াকড়ি থাকায় বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে চোরাচালানের অনিবার্য রুট। যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে নিয়মিতই সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে অবৈধ কারবারের সোনার চালান।
চমকানো তথ্য হলো, ২০২২ সাল থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৌনে পাঁচ বছরে শুধু ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়ে এক হাজার ৯৫৮ কেজি সোনা। বছরে গড়ে ৪১২ কেজি। তবে এটিকেই অবৈধভাবে আসা সোনার প্রকৃত পরিমাণ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ধরা পড়া সোনা মোট অবৈধ চালানের ১০ শতাংশেরও কম।
বিমানবন্দরকেন্দ্রিক গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সারা দেশে বিস্তৃত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাস্টমসের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খতিয়ে দেখতে পারে যে এসব স্বর্ণ দেশের কোনো সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে বাইরে পাচার করা হচ্ছে কি না।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুবাই রুট ব্যবহার করেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ স্বর্ণ দেশে আসে। তবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা হংকং থেকেও স্বর্ণ আসার প্রমাণ রয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, বিদেশ থেকে আসা অবৈধ সোনার ৭৪ শতাংশই আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ২০ শতাংশ আসে সৌদি আরব এবং বাকি ৬ শতাংশ অন্যান্য দেশ থেকে।
বিমানবন্দরে দায়িত্বরত একাধিক গোয়েন্দা সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, মূলত কয়েকটি উপায়ে স্বর্ণ আটক করা হয়ে থাকে। অনেক সময় যাত্রীরা নিজেদের শরীরের ভেতরে বা রেকটামে লুকিয়ে স্বর্ণ বহনের চেষ্টা চালায়। আবার গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমসের চ্যালেঞ্জ কিংবা স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় স্বর্ণ ধরা পড়ে। এ ছাড়া কাস্টমসের নিয়মিত কড়া নজরদারির কারণে ধরা পড়ার আশঙ্কায় যাত্রীরা অনেক সময় শৌচাগার বা অন্য কোনো লুকানো স্থানে স্বর্ণ ফেলে রেখে চলে যায়।
কৌশলী চালানে নাকাল গোয়েন্দারা
সোনা চোরাচালানের বহুল প্রচলিত কৌশল ছিল যাত্রীর শরীর কিংবা লাগেজ। গোয়েন্দাদের নাকাল করে এখন নিত্যনতুন কৌশল ধরেছে কারবারিরা।
গত ২৮ মার্চ রাতের ঘটনা। দুবাই থেকে উড়ে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বিজি-৩৪৮। নামার আগে থেকেই উড়োজাহাজটিকে নজরদারিতে রেখেছিলেন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অবতরণের পর শুরু হয় তল্লাশি।
এক পর্যায়ে নজর পড়ে উড়োজাহাজের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেলে। বাইরে থেকে সবই স্বাভাবিক। প্যানেল খুলতেই বেরিয়ে আসে সারি সারি সোনার বার। সাদা কাপড়ে মোড়ানো বার গণনা করে দেখা গেল সংখ্যায় ১৫৩। ওজন প্রায় ১৭.৮ কেজি। বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘নির্দেশিকা উপেক্ষিত, ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কীটতত্ত্ববিদদের বারবার সতর্কতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নির্দেশিকা থাকার পরও কার্যকর হচ্ছে না ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। রাজধানীসহ দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দেশিকা অনুযায়ী মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরেও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আরও ৯ জন। চলতি বছর এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯০২ জন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে প্রায় ৩০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো সরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কোনো হাসপাতালে শয্যা না থাকলে রোগীকে নির্ধারিত অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে মশার বিস্তার সম্পর্কে প্রতি মাসে চেয়ারম্যানকে জানানোর কথা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাদের কেউই এ কাজ করেননি। এমনকি জাতীয় নির্দেশিকার বিষয়েও তাদের অনেকের জানা নেই।
সিটি করপোরেশনও মানছে না নির্দেশিকা
জাতীয় ও স্থানীয় নির্দেশিকার শুরুতেই বছরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ময়লা, পচা পানি, নালা-নর্দমা, ড্রেন, সেপটিক ট্যাঙ্ক, জলাভূমি, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত পাত্রে সকাল-বিকেল ওষুধ প্রয়োগের নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া লার্ভা ধ্বংসে সকালে এবং উড়ন্ত মশা নিধনে বিকেলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।
কোনো বাসাবাড়ির ভেতরে এডিস মশার প্রজননস্থলের তথ্য পাওয়া গেলে সেখানে ওষুধ প্রয়োগ বা ফগিং করে উৎসস্থল ধ্বংস করার কথা। এ ক্ষেত্রে ভবন বা অবকাঠামোর মালিকের কাছ থেকে নির্ধারিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার বিধান রয়েছে।
কিউলেক্স মশার ক্ষেত্রে কোনো ভবন মালিক তার ভবনের বেজমেন্ট বা অভ্যন্তরে ওষুধ ছিটাতে চাইলে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে আবেদন করার কথা। বাস্তবে এমন আবেদন খুব একটা হয় না। কেউ কেউ মৌখিকভাবে স্থানীয় কাউন্সিলরকে ফোন করে বাসার নিচে ওষুধ ছিটানোর অনুরোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রে মশককর্মীদের দেখলে বাসিন্দারা তাদের অনুরোধ করে বাসার ভেতরে ওষুধ ছিটিয়ে নেন। আবার অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে মশককর্মীরা বাড়ির ভেতরে ওষুধ ছিটান না।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, গত তিন বছর তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে মশা নিধনে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে এটি কার্যকর পদ্ধতি নয়। তাই তারা নিজেরাই মশার উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করছেন। ঢাকার বড় ১০ হাসপাতাল থেকে এক হাজার ৬৭২টি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে একশটি এলাকা শনাক্ত করা হয়েছে। সেই জায়গাগুলোতে দৈনিক ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারাদেশে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিধনে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এখন তাদের পরিকল্পনা হলো হাসপাতাল, স্কুল ও মন্দিরে কীটনাশক ছাড়াই এডিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মশা ধরতে আধুনিক ফাঁদ ‘বিজি সেন্টিনেল ট্র্যাপ’ বসানো। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিসের লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ প্রয়োগ এবং পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সারাদেশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে।
ইমরুল কায়েস বলেন, বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি এবং পরিত্যক্ত পাত্রে এডিস মশার প্রজনন হয়। তাই সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি।
২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৯০২
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবারের বুলেটিন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২০৬ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০১ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২১৬, চট্টগ্রামে ২৭২, খুলনায় ৩০৬, ময়মনসিংহে ৯৮, রাজশাহীতে ১০৫, রংপুরে ৬৬ এবং সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে এক হাজার ৯৮৮ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৭৭৪। এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের। সব মিলিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬০ জন।
ইত্তেফাক
সরকার চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছে, তবু ফিরে পাচ্ছেন না কর্মস্থল—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা বিভিন্ন এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ তিন সহস্রাধিক শিক্ষকের চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) লিখিত চিঠিতে এসব শিক্ষককে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। তবে এখনো ১ হাজারের মতো শিক্ষক তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি ‘মবের শিকার’ শিক্ষকদের কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে অটল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, মূলত অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, স্থানীয় রাজনীতি এবং প্রভাবশালীদের বাধার কারণে এসব শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে। মাউশি তদন্তও শুরু করেছে। এদিকে দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক শিক্ষক। চাকরি ও কর্মস্থল ফিরে পেতে এ সংক্রান্ত তিন শতাধিক মামলাও হয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
এদিকে জোরপূর্বক পদত্যাগের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এসেছে। একটি মামলায় ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের আইনি বৈধতা নেই উল্লেখ করে গাজীপুরের সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া, সভাপতিকে অপসারণ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধানের এমপিও বন্ধসহ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠান
প্রধান ও শিক্ষক জোটের আহ্বায়ক ও ঢাকার ধামরাইয়ের সুয়াপুর নান্নার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি আদেশ ও আদালতের নির্দেশনা কোনো কিছুই মানছে না বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তাকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে লিখিত আদেশ জারি করা হয়েছিল। লিখিত আদেশের কপি কমিটির সভাপতির কাছে জমাও দেন। কিন্তু সভাপতি অনুমতি দেননি।
পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার স্মৃতিচারণ করে আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পটপরিবর্তনজনিত সংকটকালে প্রতিষ্ঠানের কতিপয় সুবিধাবাদী শিক্ষক বহিরাগত দুর্বৃত্তদের নিয়ে আমার পদত্যাগ দাবি করে। মাধ্যমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের ভুল বুঝিয়ে, অপপ্রচার করে তাদের ক্লাস থেকে রাস্তায় ও স্থানীয় বাজারে আন্দোলনে নামায়। অশ্লীল গালিগালাজ ও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে মাইকে ও পোস্টারে অপপ্রচার করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। শিক্ষকেরা তখন অধ্যক্ষের পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় বসতে রাজি নন। এমনকি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করার হুমকি দেন তারা। একটানা সাত দিন স্কুলের ক্লাস বন্ধ করে, সামনের রাস্তা আটকে দিয়ে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়। এমতাবস্থায় ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গভর্নিং বডির তত্কালীন সভাপতি ড. সাইদুর রহমান সেলিম এলাকার ১৪-১৫ জন লোক নিয়ে ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে আমাকে ডেকে নেন। আমাকে অফিসে নিয়ে আগে থেকে লিখে রাখা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।’
ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা প্রশাসক কর্তৃক ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তেও দেখা গেছে যে, অধ্যক্ষকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে বর্তমান স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক তদন্তেও একই তথ্য উঠে এসেছে, অর্থাত্ তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে ও এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাকে তার পদে পুনর্বহালের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতও তার পদত্যাগপত্র বাতিল করে তাকে পুনর্বহালের আদেশ দেন। তারপরও তিনি কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। কর্মস্থলে যোগ দিতে বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি তিনি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম বেকারপ্রতি দেড় লাখ টাকা খরচ করে ‘দক্ষতা’ তৈরি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বেকার ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগে জনপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা সরকারি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে বিভিন্ন কারিগরি, তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষা ও সফট স্কিল প্রশিক্ষণ দিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ প্রস্তাব করেছে দুই হাজার ৮১২ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রকল্প। এর মধ্যে শুধু প্রশিক্ষণ বাবদই ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ১৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রশিক্ষণার্থীপ্রতি শুধু প্রশিক্ষণ ব্যয় প্রায় এক লাখ ছয় হাজার ২৭১ টাকা।
প্রশিক্ষণ, পরামর্শক, গাড়ি, সরঞ্জাম, সভা-সেমিনার, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, ভ্রমণ, গবেষণা, সম্মানীসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় বিবেচনায় নিলে একজনকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে-এ দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে একজন বেকার শেষ পর্যন্ত কী পাবেন? প্রশিক্ষণ ও সনদ, নাকি নিশ্চিত কর্মসংস্থান? কতজন দেশে চাকরি পাবেন, কতজন বিদেশে যাবেন, কতজন উদ্যোক্তা হবেন-তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো প্রকল্পের মূল লক্ষ্যে স্পষ্ট নয়। অথচ প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্যই হলো কর্মসংস্থান ও বিদেশীশি শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের নাম ‘সমবায়ের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন’। সমবায় অধিদফতর এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দেশের সব বিভাগ ও জেলার ৪৯৬টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পিইসি বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছে।
প্রশিক্ষণেই খরচ ২ হাজার ২০ কোটি
প্রকল্পের ব্যয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে বড় অঙ্কটি চোখে পড়ে প্রশিক্ষণ খাতে। এক লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই হাজার ১৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
হিসাবটি সরল। এ অর্থকে মোট প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে প্রশিক্ষণার্থীপ্রতি শুধু প্রশিক্ষণ ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ছয় হাজার ২৭১ টাকা।
কিন্তু প্রকল্পের মোট ব্যয় এর চেয়েও অনেক বেশি। মোট দুই হাজার ৮১২ কোটি ২২ লাখ টাকা একই সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ভাগ করলে জনপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। অর্থাৎ একজন বেকারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে সরকারের গড় ব্যয় প্রায় দেড় লাখ টাকা।
এ ব্যয়ের বড় অংশ প্রশিক্ষণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হলেও প্রকল্পে আরও রয়েছে হার্ডওয়্যার, সেমিনার ও কনফারেন্স, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, বইপত্র ও প্রশিক্ষণসামগ্রী, প্রকাশনা, অটোমোবাইল, ভ্রমণ, মুদ্রণ ও বাঁধাই, মনিহারি, পোশাক, কনসালটেন্সি, গবেষণা, সার্ভে/ফিল্ড টেস্ট ও ল্যাব, সম্মানী এবং অফিস সরঞ্জামের মতো খাত।
শুধু অটোমোবাইল খাতেই ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। সম্মানী খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাত কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এ অবস্থায় প্রকল্পটির ব্যয়ের কাঠামো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-দক্ষতা উন্নয়নের প্রকল্পে কত টাকা সরাসরি প্রশিক্ষণার্থীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে যাচ্ছে এবং কত টাকা প্রকল্প পরিচালনার আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হচ্ছে?
৪৯৬ উপজেলায় প্রশিক্ষণ
প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৯৬টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নেয়া হবে এক লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে। প্রশিক্ষণের বিষয়ও কম নয়। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং, মেশিনারি ও টেইলারিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং, বেকিং অ্যান্ড কেক মেকিং এবং ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন।
প্রকল্পের যুক্তি হলো-বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা ও শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু বিশেষ করে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত। এ বাস্তবতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কাগজে লক্ষ্যটি আকর্ষণীয়। কিন্তু বাস্তব সাফল্যের প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর প্রশিক্ষণার্থীদের কী হবে?
বণিক বার্তা
‘আইকাও’ অডিট সামনে রেখে নিরাপত্তা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বেবিচক—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এ এভিয়েশন বিশেষজ্ঞের মতে, আইকাও একটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নয়, দেশের সামগ্রিক এভিয়েশন সিকিউরিটি তদারকি ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক নিরাপত্তা স্তর পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিভর্তি একটি ব্যাগ বিমানে দিল্লি চলে যায়। ঘটনাটি গত ১৬ জুলাইয়ের। ঢাকায় দুই দফা নিরাপত্তা স্ক্যানিংয়ে শনাক্ত হয়নি এ গোলাবারুদ। দিল্লি বিমানবন্দরে ধরা পড়ার পরই বিষয়টি জানাজানি হয়। শনাক্তহীন অবস্থায় বিমানবন্দর থেকে গুলি পার হওয়ার ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের, অন্যটি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর থেকে। গুলিভর্তি ব্যাগ বিমানবন্দরের চেকিং পয়েন্ট পার হওয়ার ঘটনায় দুই স্ক্রিনারের দায়িত্বে গাফিলতি পায় তদন্ত কমিটি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দুই স্ক্রিনিং অপারেটরকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য বেবিচক সদর দপ্তরে লিখিতভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। আলোচিত এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন এক ঘটনার কিছুদিন পর সামনে আসছে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট। ২৬ অক্টোবর থেকে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম—কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বেবিচকের সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো খতিয়ে দেখা হবে।
অডিট সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে দাবি করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অডিটের প্রস্তুতি প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। নিজেদের ঘাটতি খুঁজে বের করে তা ঠিক করতে তিন ধাপে প্রাক-অডিট চলছে। এরই মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ অডিট শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও অডিট চলছে। এসব অডিটে (অভ্যন্তরীণ) ছোটখাটো যেসব ঘাটতি বা “গ্রে এরিয়া” পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো অডিটের আগেই ঠিক করার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।’ আসন্ন অডিটে বেবিচকের স্কোর ৭৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশাবাদী তিনি।
গত ১৬ জুলাই স্ক্যানে গুলি ধরা না পড়ার ঘটনা নিয়ে আসিফ ইকবাল বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় বিমানবন্দরেও মাঝেমধ্যে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।’ তার মতে, ওই ঘটনায় শুধু গুলিই ছিল, বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি এবং নির্দিষ্ট এই একটি ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক অডিটে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে এমন ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি কঠোর রাখা হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আইকাও অডিটে কাগজে-কলমে থাকা প্রটোকলের চেয়ে মাঠ পর্যায়ে বাস্তব প্রয়োগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্র বা গুলি পার হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা কিংবা বিমানবন্দরের কর্মীদের অনিয়ম নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’
এ এভিয়েশন বিশেষজ্ঞের মতে, আইকাও একটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নয়, দেশের সামগ্রিক এভিয়েশন সিকিউরিটি তদারকি ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে।
বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না; মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা।’ বেবিচকের তদারকি বাড়ানো, স্ক্যানারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আলাদা করার ওপর জোর দেন তিনি।
অন্যদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় না দেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন এয়ারএশিয়া ও কুয়েত এয়ারলাইনসের জেনারেল সেলস এজেন্ট প্রতিষ্ঠান টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের (টাস গ্রুপ) চেয়ারম্যান কেএম মজিবুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” থাকতে হবে। থার্ড টার্মিনালে যে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসানো হচ্ছে ধীরে ধীরে একই মানের সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরনো টার্মিনালগুলোতেও আনা দরকার। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনবলকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মান আরো উন্নত করতে হবে। এ কাজ কোনো একক সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। এয়ারলাইনস, বেবিচক, বিমান বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট এসওপি অনুযায়ী জনবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তা বাস্তবে নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ভুলও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে নিয়ে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।’
আজকের পত্রিকা
দৈনক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘নির্বাচন কমিশন: রমজানের আগেই তিন ধাপের ইউপি নির্বাচন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছর পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিন ধাপের নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই ধাপের এবং ফেব্রুয়ারিতে এক ধাপের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির। এই তিন ধাপে ২ হাজারের বেশি ইউপির নির্বাচন করা হতে পারে। ইউপির পাশাপাশি জানুয়ারিতে এক ধাপের পৌরসভা নির্বাচন করার কথাও ভাবছে ইসি।
ইসির একাধিক সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা থেকে সরে গিয়ে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপের নির্বাচন করার কথা ভাবা হচ্ছে। এরপর চতুর্থ সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তথা পবিত্র রমজানের আগে তৃতীয় ধাপের ভোট করতে চায় ইসি। প্রতি ধাপে ৭০০-৮০০ ইউপির নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউপি রয়েছে।
জানতে চাইলে গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, রমজানের আগেই তিন ধাপের নির্বাচন করার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যায়। এসব ধাপে আনুমানিক ২ হাজার ইউপিতে নির্বাচন হবে, সংখ্যাটি ২০০-এর কমবেশি হতে পারে। প্রথম ধাপের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন সময়সূচি তিন-চার দিন পেছানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মূল সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তিন ধাপের নির্বাচন হবে।
গত সেপ্টেম্বরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন হবে। প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, যোগাযোগ ছাড়াই নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে ইসি। এই অবস্থায় পিছু হটে ইসি। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনের জন্য আগে উপযুক্ত সময় বের করতে হবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় সময়ের সুযোগ কম। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা; এরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষা শেষে ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগপর্যন্তও কিছুটা সময় রয়েছে। তাই পাওয়া সময়ের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে।
ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির আলোচনা হচ্ছে। আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকের পরও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত চিঠি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত তাঁরা পাননি। সরকার তাদের দিক থেকে বিষয়টি নিয়ে বলছে, কমিশনও তার অবস্থান জানাচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এভাবেই চলছে।
গাইবান্ধায় ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে।
দেশ রূপান্তর
‘২০ লাখ শিশু নেই সরকারের খাতায়’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জন্মের পর একটি শিশুর প্রথম সরকারি পরিচয় তৈরি হয় জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে। অথচ পথে থাকা বিপুলসংখ্যক শিশুর জন্মের তথ্যই নেই সরকারের খাতায়। এই সংখ্যা অন্তত ২০ লাখ। পরিচয় ও বয়সের প্রমাণ থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক সুরক্ষা ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এতে তৈরি হয় নানা বাধা।
এতে শিশুরা ধীরে ধীরে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ নানা গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি পুলিশের প্রতিবেদনেও রাজধানীর কিশোর গ্যাংয়ের বেশিরভাগ সদস্যকে ভাসমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অনেকে ফুটপাত ও বস্তিতে থাকে। পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতাই তাদের অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এসেছে। মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি ও দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব চক্র শিশুদের কাজে লাগায়। ফলে জন্ম নিবন্ধনহীন ও রাষ্ট্রীয় সেবার বাইরে থাকা শিশুরা একদিকে নাগরিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে আরও বড় ঝুঁকির দিকে।
ইউনিসেফের ওই গবেষণায় দেশে অভিভাবকের যত্ন সরকারের খাতায় ছাড়া ‘স্ট্রিট সিচুয়েশনে’ থাকা শিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর কারিতাস বাংলাদেশের ২০২৫ সালের জরিপে বলা হয়েছে, ৫৮ দশমিক ২ শতাংশের জন্ম নিবন্ধন নেই। এই দুটি জরিপের ফল বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়, দেশে অন্তত প্রায় ১৯ লাখ ৭২ হাজার শিশুর জন্ম নিবন্ধন নেই। বর্তমানে এর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এই দুটি জরিপের মধ্যে একটির সঙ্গে আর একটির কোনো যোগসূত্র নেই।
বাবা-মা অভিভাবক থাকার পরও শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে সীমাহীন ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তদবিরের পরও জন্ম নিবন্ধন করতে বেগ পেতে হয় সাধারণ মানুষের। পরিবার ও অভিভাবকের পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের জন্য সমস্যাটি আরও জটিল। কেননা শিশু বয়সে তারা জানেই না, এই জন্ম নিবন্ধন তাদের কেন প্রয়োজন। কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে কিছু পথশিশুর জন্ম নিবন্ধন শুরু হয়েছে। সরকারও এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
গত বছর কারিতাস বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীর শিশুদের নিয়ে করা ওই জরিপে আরও দেখা যায়, জন্ম নিবন্ধন না থাকা শিশুদের ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ তাদের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর জানে না। জরিপে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু স্কুল বা মাদ্রাসায় পড়ছে না এবং মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। অর্থাৎ ৯৪ দশমিক ৩ শতাংশ এসব কর্মসূচির বাইরে।
এই অবস্থায় আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সঠিক ও নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেবল নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ভিত্তিই নয়, বরং উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ন্যায়সংগত বাজেট বণ্টন এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসন নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতি বছরের ন্যায় এ নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। তাবে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও টিভি চ্যানেল ছাড়া অন্য কোনো গণমাধ্যমকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।
কারিতাসের জরিপে পথশিশুদের জন্য সহজ পদ্ধতিতে জন্ম নিবন্ধন, ওয়ার্ডভিত্তিক ও ভ্রাম্যমাণ কার্যক্রম এবং হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সরাসরি নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও পথশিশুদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘নভেম্বরে রাজনৈতিক সংলাপ’। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আবারও সংলাপে বসার পরিকল্পনা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৩, ২৪ ও ২৫ তারিখের রাজনৈতিক দলের সংলাপ বাতিল করেছিল কমিশন। তবে আগামী নভেম্বরে আবারও সংলাপে বসার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি। এবারে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েই রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, সংলাপের জন্য ইসি সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় সংলাপ বাতিল হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিলে নভেম্বর মাসেই সংলাপ হতে পারে। তবে এবারে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশন সিকোয়েন্স অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাবে ইসি। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন সংলাপে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদ নির্বাচন যেমন সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গন্ডগোল ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে, সেভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুশৃঙ্খল করতে দলগুলোর কাছে সহযোগিতা চাইতেই সংলাপের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইউপি নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ৪০-৪৫ দিন আগেই তফসিল দেওয়া হবে। তবে তফসিল দেওয়ার আগেই দলগুলোর কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হবে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে হলে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আর সংলাপ করতে হবে নভেম্বরের শুরুর দিকেই। গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সভা করে সংলাপ ও ইউপি ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। ওই দিন ইসি বলেছিল, ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় এ নির্বাচন। প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে, ইউপি নির্বাচন সপ্তম ধাপে শেষ হবে আগামী বছরের ২৭ মে। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবার) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে আমন্ত্রণের কথা জানানো হয়েছিল। তার এক দিন পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তব্য দেন সরকারের দুই মন্ত্রী। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণায় ইসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। রাজনৈতিক মহলেও সরকার ও ইসির সমন্বয়হীনতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
পরে ইসি বলেছিল, ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে। তবে সেই বৈঠকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বরং বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি নির্বাচন করা সম্ভব নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শেষ করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। পরে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা থেকে সরে যায় ইসি। বাতিল হয় সংলাপের সিদ্ধান্ত।
স্টার নিউজ
‘বিমানের ১০ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি, সংযুক্তি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব’—এটি স্টার নিউজের খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্লোগান, আকাশে শান্তির নীড়।তবে যাত্রীদের অভিযোগ আকাশ থেকে মাটিতে নামলেই পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। লাগেজ পেতে দেরি কিংবা মিসিং, এমন অভিযোগ ওঠে হরহামেশাই।
সম্প্রতি তেমনই এক ঘটনায় সরকারি কাজের বাধার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান।
জামায়াতের এই নেতার গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও দাবি উঠে বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি নিরসনের। এরই মাঝে সোমবার বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সতর্ক করেন বিমানমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা করলে তার শাস্তিও আছে, আর তারা যদি দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে তার জন্য তাদের পুরস্কৃত করা হবে।
ওইদিনই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশে প্রশাসনিক গতিশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে ১০ জন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার রদবদল ও অতিরিক্ত দায়িত্ব বন্টন করা হয়।
যেখানে উল্লেখ করা হয় এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদকে গ্রাহক সেবা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পদে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আদেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংযুক্ত মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলামকে পরিচালক করে প্রশাসন ও মানবসম্পদ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক ইকবাল আহমেদ আলিজাকে কার্গো বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সরকারের এই রদবদলে বিমানের সেবার মানউন্নয়ন ঘটবে এবং বিশ্ব দরবারে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই যাত্রীদের প্রত্যাশা।
