বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাক-এ বোমা হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে ‘টাইপিক্যাল চাইনিজ ম্যান’ নামে একটি জি-মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলে এই হুমকি দেয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়- ‘মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বোমা হামলা চালানো হবে। ‘জেনে রেখো, যা ঘটতে চলেছে তা তোমাদের কেউই থামাতে পারবে না।’ এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাজধানীর বাড্ডা থানায় জিডি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
টিপিক্যাল চাইনিজ ম্যান নামে পাঠানো ওই মেইলে বলা হয়- ‘আমি বাংলাদেশের ঢাকা ১২১২, প্রগতি সরণি, খ-২২৪ এ অবস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গণবোমা হামলা চালাবো। তাই যদি আমার মুখ দেখতে পাও, তবে জেনে রেখো যা ঘটতে চলেছে তা তোমাদের কেউই থামাতে পারবে না। ৬ই অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে এই হামলা করা হবে।’
এবিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো একটি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, একটি অজ্ঞাত ই-মেইল আমরা পেয়েছি। বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং আমরা তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহায়তা পাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমরা আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি পরিবারের সকল সদস্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ফাতিয়াস ফাহমিদ বলেন, মেইলটা পাওয়ার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমিন বলেছেন, ই-মেইলে কে বা কারা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক বম্বিং করা হবে হুমকি দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রোববার সন্ধ্যায়ই আমাদের থানায় এ বিষয়ে জিডি করা হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন ইউনিট বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। হুমকির বার্তাটি কতটা বাস্তবসম্মত, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা পোটেনশিয়াল কোনো হুমকি না। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে ডিবি’র সাইবার টিম। ডিএমপি’র গোয়েন্দা (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।
