দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও লুটপাট বন্ধে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পুরো হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া টার্মিনালের মনিটরে সরাসরি (লাইভ) সিসিটিভিতে সম্প্রচারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিমানবন্দরের লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সক্রিয় নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপককে নোটিশের পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।
নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া লাইভ সিসিটিভি সম্প্রচার, প্রকাশ্যে লাগেজ তল্লাশি এবং বিমানবন্দরকর্মীদের স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট (পিআইএল) দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। অথচ দীর্ঘদিন ধরে দেশে আসা ও বিদেশগামী সাধারণ যাত্রী, পর্যটক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকরা লাগেজ চুরির শিকার হচ্ছেন। উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ নামিয়ে কনভেয়ার বেল্টে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে একটি অসাধু চক্র তালাবদ্ধ লাগেজ কেটে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক হয়রানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত সম্পত্তির অধিকার এবং ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নোটিশে বলা হয়, রানওয়ে ও ব্যাগেজ সর্টিং এলাকায় নজরদারির ঘাটতি এবং সিসিটিভির ‘ব্লাইন্ড স্পট’কে কাজে লাগিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডারদের একটি অংশ এসব অপরাধ করে থাকে। এ কারণে লাগেজ পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এতে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র্যাম্প এলাকা দিয়ে পরিবহন এবং ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া উচ্চমানের সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অ্যারাইভাল লাউঞ্জের বড় পর্দায় ওই কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কাস্টমস বা নিরাপত্তা সংস্থা কোনো যাত্রীর লাগেজ খুলে তল্লাশি বা পরীক্ষা করলে তা যেন যাত্রীর সামনে ক্যামেরায় দৃশ্যমানভাবে করা হয়, সে ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দরের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নোটিশে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের একটি অংশ ঘুষের টাকা তুলতে গিয়ে লাগেজ চুরি ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুদকের সক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির কথাও বলা হয়েছে।
