বিদেশি ফ্লাইটে নিরাপত্তাঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছিল ইসরাইলের সংস্থাগুলো

চাপে নেতানিয়াহু

বিদেশি ফ্লাইটে নিরাপত্তাঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছিল ইসরাইলের সংস্থাগুলো

ফন্ট সাইজ:

কঠিন এক সময়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একদিকে সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। তাতে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। এরই মধ্যে তার ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন বিরোধী নেতারা। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমান ওমানি সহকারী পাইলট বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করার পর পরিবহণমন্ত্রী মিরি রেগেভকে বরখাস্ত করার দাবি উঠেছে। এই দাবি ওঠার মধ্যেই খবর প্রকাশ পেয়েছে যে, ইসরাইলের শীর্ষ কয়েকটি সংস্থা বছরের পর বছর সতর্ক করে আসছিল যে- বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা যাচাই, এমনকি এসব বিমানের পাইলটদের তদারকির দায়িত্বও পরিবহন মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে পালন করছে না। ফলে নেতানিয়াহুর ওপর চাপের মাত্রা আরো বেড়েছে। এ খবর দিযেছে অনলাইন এনডিটিভি।

বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন একটি দেশের একজন পাইলট কীভাবে তেল আবিবগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেলেন। টাইমস অব ইসরাইল, আর্মি রেডিওর হাতে আসা অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার- এ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত-এর কাছ থেকে এই দায়িত্ব সরিয়ে নেয়। এরপর পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়, সবচেয়ে উচ্চঝুঁকির দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়- এমন বিদেশি দেশগুলোর নিরাপত্তা নির্দেশনা আন্তর্জাতিক চুক্তির বিধিবিধান মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করতে।

আর্মি রেডিও ওই নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের একটি গোপনীয় রাষ্ট্রীয় মহা-হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরিবহন মন্ত্রণালয় তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। ২০২৪ সালের মে মাসে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকে (এনএসসি) ৯০ দিনের মধ্যে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। পরিবহন মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, শিন বেত, ইসরাইলের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওই কমিটি গঠনের কথা ছিল। কমিটির কাজ ছিল ইসরাইলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট প্রবেশের নিরাপত্তা কাঠামো পর্যালোচনা করা এবং এতে পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ তৈরি করা। এরপর এ নিয়ে আলোচনা প্রায় এক বছর ধরে চলে। এ সময় শিন বেত জানায়, বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব পালনের মতো পর্যাপ্ত জনবল বা বাজেট তাদের নেই। এরপর এনএসসি জানায়, বিদেশি ফ্লাইটের বিষয়ে দায়িত্ব পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পালন করাই উপযুক্ত। এতে আরও বলা হয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি যাতে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও বাজেট নিশ্চিত করতে হবে।

আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা প্রধান আভরি কোহেন জানিয়েছিলেন, এত বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের দায়িত্ব নেয়ার সক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের নেই। এরপরও মিরি রেগেভ দায়িত্বটি তার মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরে সম্মতি দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নেতানিয়াহু নির্দেশ দেন, বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে পরিবহন মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদেশি ফ্লাইটের বিষয়ে তাদের দায়িত্ব কয়েক দশক ধরেই রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন করে এই দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের ওপর দেয়া হয়েছে- এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা সঠিক নয়।

অন্যদিকে মিরি রেগেভ বলেছেন, হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতির জন্য তার মন্ত্রণালয় দায়ী নয়। কারণ বিদেশি পাইলটদের বিষয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করার সক্ষমতা তাদের নেই। শনিবার ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান’কে তিনি বলেন, ক্রু সদস্যদের শনাক্ত করার দায়িত্ব যাদের, তারা নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আমরা নিরাপত্তা কর্মকর্তা নই। তিনি আরও বলেন, হুমকির মাত্রা কী এবং নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্যে যাওয়া যাবে কি না- এটা বলার দায়িত্বও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের। এর আগে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেরেন টেরনার বর্তমানে বিরোধী দলের হয়ে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য রেগেভকে দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি রেগেভের মন্ত্রণালয়ের সরাসরি অধীনস্থ। এক্সে তিনি লিখেছেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার। শিন বেতের নয়, মোসাদের নয়, আপনার। সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আইনেও সেটিই বলা হয়েছে।

২৭শে অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট বলেছেন, ‘একটি সঠিক ও কার্যকর সরকার হলে পরিবহণমন্ত্রী গত রাতেই পদত্যাগপত্র জমা দিতেন।’ এক্সে তিনি আরও লিখেছেন, একটি সঠিক দেশে প্রধানমন্ত্রী তাকে বরখাস্ত করতেন এবং এই ব্যর্থতার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিতেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে কয়েক ডজন ওমানি পাইলট তেল আবিবে উড়েছেন বলে জানা গেছে। অথচ ইসরাইলে বৈরী রাষ্ট্রগুলোর পাইলটদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।