মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কি এ বছর নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন? কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। নিজেকে নোবেল পুরস্কারের অনেক বড় দাবিদার বলে মনে করেন ট্রাম্প। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় চলতি বছরে ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে আগামী ৯ই অক্টোবর ঘোষণা হতে যাওয়া এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত বছর ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার ঘটনাটি পুরস্কারটির ১২৫ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ছিল। ট্রাম্প পুরস্কারটি পেতে তীব্র লবিং করেছিলেন। কিন্তু নিজে জিততে না পারলেও তিনি ভেনেজুয়েলার মাচাদোকে প্রভাবিত করেন। এমনকি মাচাদো তার নোবেল স্বর্ণপদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলো জানান, পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি এবার এমন কাউকে বেছে নিতে পারে যিনি ট্রাম্পের চাপ সহ্য করতে সক্ষম। ট্রাম্পের নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে উদার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার স্বীকৃতি হিসেবে এবার পুরস্কারের লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ কিংবা পোপ লিওর নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পকে কোনোভাবেই চটাতে না চাইলে নোবেল কমিটি এবার সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও নিরাপদ কোনো পথ বেছে নিতে পারে বলেও ধারণা করছেন অনেকে। সেক্ষেত্রে গৃহযুদ্ধপীড়িত সুদানের তৃণমূল দাতব্য নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ অথবা যুদ্ধকবলিত শিশুদের সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ পুরস্কারটি পেতে পারে। এদিকে নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের কঠোর সমালোচনা করেছেন নোবেলজয়ী ফিলিপিনো সাংবাদিক মারিয়া রেসা। তিনি বলেন, পেশিশক্তি দিয়ে পৃথিবী পরিচালিত হতে পারে না এবং নোবেলের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারকে কোনো চাপের মুখে নতিস্বীকার করা উচিত নয়।
