ভারতীয় স্ত্রীর নামে ব্যাংক ঋণ নিয়ে পালিয়ে আসলেন বানিয়াচংয়ের যুবক, অতঃপর...

ভারতীয় স্ত্রীর নামে ব্যাংক ঋণ নিয়ে পালিয়ে আসলেন বানিয়াচংয়ের যুবক, অতঃপর...

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশি পরিচয় গোপন করে ভারতে এক খ্রিস্টান তরুণীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেছিলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের যুবক মিজান মিয়া (২৮)। অতঃপর স্ত্রীর নামে মোটা অঙ্কের ব্যাংক লোন নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন তিনি। ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে সেই স্ত্রী স্বামীর খোঁজে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মিজান বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের চানপুর বন্দের বাড়ি এলাকার বীমা তাহের মিয়ার ছেলে। ঘটনা ফাঁসের পর থেকে মিজান এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে পালিয়ে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিজান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে নিজেকে ভারতের কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে সিতারা নামে এক খ্রিস্টান তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মিজানকে জীবনসঙ্গী করতে সিতারা নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তারা সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পর মিজান কৌশলে স্ত্রী সিতারার নথিপত্র ব্যবহার করে ভারতের ‘অ্যাক্সিস ব্যাংক’ থেকে কয়েক দফায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ উত্তোলন করেন। এর পরপরই মিজান কলকাতায় মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। দীর্ঘদিন স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে সিতারা ভারতে কর্মরত বানিয়াচংয়ের অপর এক শ্রমিক সাইদুর রহমানের মাধ্যমে জানতে পারেন, মিজান কলকাতার নন- বাংলাদেশের নাগরিক। তার বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে।

স্বামীর আসল ঠিকানা পেয়ে নিরুপায় সিতারা নিজের পাওনা ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বানিয়াচংয়ে এসে হাজির হয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিতারা সাংবাদিকদের বলেন, মিজান নিজেকে কলকাতার ছেলে পরিচয় দিয়ে আমাকে বিয়ে করেছিল। আমার নামে লোন তুলে সেই টাকা নিয়ে ‘ও’ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এখন ব্যাংকের লোকেরা ঋণের কিস্তির জন্য আমাকে প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে আমি ওর খোঁজে এখানে এসেছি। আমি প্রশাসনের কাছে এই প্রতারণার বিচার ও আইনি সহযোগিতা চাই। এদিকে সিতারা মিজানের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতে মিজানের সঙ্গে কাজ করা শ্রমিক সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সিতারার সঙ্গে বিয়ে এবং ব্যাংক লোন নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য।