দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে খনিতে কর্মরত আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মচারীদের নিয়োগের দাবিতে কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছেন। গতকাল সকাল ১১টায় কয়লাখনির মেইন গেটের সামনে আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মচারীরা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ, লিয়াকত আলী, ফরহাদ হোসেন, ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, শ্রমিক কর্মচারী মো. মাহাবুব, হামিদপুর ইউপি’র ১৩ গ্রামের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, মো. এরশাদ, হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক প্রমুখ।
বক্তব্যে বলেন, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল)-এ আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মচারী। দীর্ঘ প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে দক্ষতা ও সুনামের সহিত কাজ করে আসছি।
কয়লা খনির কারণে জমি অধিগ্রহণের ফলে আমাদের অনেকেই বসত-ভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা এমনকি বাপ-দাদার কবরস্থান পর্যন্ত হারিয়েছি। গত ২০০৯ সালের ১৫ই মে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারকের ৮ ধারায় ক্ষতিগ্রস্তদের কয়লা খনিতে চাকরির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরকারি নীতিমালা শিথিল করে চাকরি প্রদানের সুপারিশ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। প্রথম হতেই অত্র কোম্পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি আউট সোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রেখে সকল সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
গত ২৫শে সেপ্টেম্বর মনগড়া পরীক্ষার মাধ্যমে আবারো আমাদের বঞ্চিত করে অবৈধভাবে বহিরাগতদের ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়োগ প্রচেষ্টা চলছে। তা স্থগিত রেখে, বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি মোতাবেক সরকারি নীতিমালা শিথিল করে এবং হাইকোর্টের রিট পিটিশনের রায়ের ভিত্তিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে কমিটি গঠন করে জরুরি ভিত্তিতে সকল পিটিশনারদের স্থায়ী নিয়োগ প্রদানের জন্য রায় দেন।
