বরগুনার বামনায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকার করার অভিযোগে একই বিদ্যালয়ের পিয়ন সুজন কারাগারে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর বিকালে বিদ্যালয় ছুটির পর ১২নং বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার বরগুনা সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং ভিকটিমের মা লিপি রাতে বামনা থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত পিয়ন রোববার বরগুনা নারী ও শিশু আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলো- মো. সাকিবুর রহমান সুজন (৩৫)। সে বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সফিপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ১২ নম্বর বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের পিয়ন সুজন ৫-৬ মাস ধরে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর আগে ও শেষ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের দোতালার পূর্বপাশের রুমে দরজা বন্ধ করে তার কামভাব চরিতার্থ করার জন্য শিশুটির মুখের ভেতর পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করিয়ে যৌন নির্যাতন বা বলাৎকার চালাতো এবং শিশুটির মুখে বীর্যপাত করতো।
এ ঘটনায় শিশুটি প্রায়ই বমি করতো এবং প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকতো। মারধর ও ভয়ভীতির কারণে শিশুটি আতঙ্কে এতদিন বিষয়টি তার পরিবারকে জানাতে পারেনি। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় ছুটির পর তাকে ভাত খেতে দিলে সে বমি করতে থাকে। তখন তাকে জোরালাভাবে জিজ্ঞাসা করলে তার মাকে বিস্তারিত খুলে বলে। পরে শিক্ষার্থীর মা লিপি বামনা থানায় অভিযুক্ত পিয়ন সুজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ ঘটনার কিছুদিন আগেও অভিযুক্ত সুজন একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মাকে বিদ্যালয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা সালিশ মীমাংসার মাধ্যমে ঘটনাটি মিটমাট করে দেয়।
বামনা থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার ওই স্কুলের পিয়নের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
