ফ্রান্সের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করেছেন জিনেদিন জিদান। তিন ম্যাচে এখনো হারের অস্বস্তিতে পড়তে হয়নি ফরাসি কিংবদন্তিকে। তবে ঘরের মাঠে আগের ম্যাচের স্বদেশী সমর্থকদের জয় উপহার দিতে পারেনি জিদান শিষ্যরা। আজ আরেকবার সেই লক্ষ্যে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নামছে ফ্রান্স। স্তাদে দে ফ্রান্সে উয়েফা নেশনস লীগের এ-১ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে আজ রাত পৌনে ১টায়। অন্যদিকে, প্রথম লেগের দেখায় ঘরের মাঠে হারের প্রতিশোধ নিতে মাঠে নামবে বেলজিয়ানরা। লে ব্লুদের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর জিনেদিন জিদানের এটি দ্বিতীয় হোম ম্যাচ। এর আগে ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় ফরাসিদের।
মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত গোলে ফ্রান্স এগিয়ে গেলেও ছোট্ট ভুলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। তাছাড়া, ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানো। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ৫ দেখায় সবগুলোতেই জয় পেয়েছে ফ্রান্স। আগের ম্যাচের মতোই হাঁটুর চোটের কারণে এই ম্যাচে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পাচ্ছে না স্বাগতিকরা। তবে ওলিসে, উসমান দেম্বেলে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো তারকারা ফরাসি আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, মার্ক ভ্যান বমেলের বেলজিয়াম তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসে মাঠে নামছে।
রোমেলু লুকাকুর পাশাপাশি কেভিন ডি ব্রুইনার জোড়া গোল সেই ম্যাচে রেড ডেভিলদের জয় এনে। যদিও ঘরের মাঠে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার নিশ্চয়ই মনে আছে তাদের। এবারের ম্যাচে ফরাসি ডিফেন্ডার উপামেকানোর নিষেধাজ্ঞা এবং বেলজিয়ামের মিডফিল্ডে ডি ব্রুইনা ও ইউরি তিলেমানসের অনুপস্থিতি উভয় দলের জন্যই কৌশলগত সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। ফ্রান্সের রক্ষণে উপামেকানোর অনুপস্থিতিতে চেলসির ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া এবং জেরেমি জাকের ওপর ভরসা রাখতে পারেন জিদান। অন্যদিকে, বেলজিয়ামের মিডফিল্ড সামলানোর ভার থাকতে পারে চেলসির তরুণ প্রতিভা রোমিও লাভিয়ার কাঁধে। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) তরুণ তারকা মিকা গদটসও মাঠে নামতে পারেন তার ক্লাব সতীর্থদের বিপক্ষে। হেড-টু-হেডে উভয় দলই সমান ৩০টি করে জয় নিয়ে সমতায় রয়েছে। তবে সামপ্রতিক ফর্ম এবং আধিপত্যের দিক থেকে ফ্রান্স কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ঘরের মাঠে জিদানকে জয় এনে দিতে হলে ফরাসিদের সেরাটা দিতেই হবে।
ইতালির ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন
একই গ্রুপের আরেকটি বড় ম্যাচে বোলোনিয়ায় মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ইতালি ও তুরস্ক। রেনাতো দাল’আরায় ম্যাচটি শুরু হবে রাত পৌনে ১টায়। রবার্তো মানচিনির ইতালি ঘরের মাঠে জয়ের ধারায় ফিরতে মুখিয়ে আছে। অন্যদিকে, তলানিতে থাকা ভিনচেনজো মন্তেলার তুরস্কের সামনে টিকে থাকার কঠিন লড়াই। ইউরো ২০২০ জয়ী কোচ রবার্তো মানচিনি পুনরায় ইতালি ডাগআউটে ফিরে দলকে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরানোর চেষ্টা করছেন। তুরস্কে গিয়ে ৪-১ গোলের বড় জয় এবং সবশেষ প্যারিসে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর আজ্জুরিদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।
পিও এসপোসিতো, মাইকেল কাজোদে ও আলেসান্দ্রো বাস্তোনিদের নিয়ে গড়া তরুণ দলটির লক্ষ্য ঘরের মাঠে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয়া। পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে রয়েছে ইতালি।
অন্যদিকে, নেশনস লীগের লেভেল এ-তে এসে চরম বিপাকে পড়েছে তুরস্ক। গ্রুপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই হেরে তলানিতে রয়েছে মন্তেলার দল। এর মধ্যে বেলজিয়ামের কাছে ৩-০ গোলের হার তাদের ভঙ্গুর অবস্থাই ফুটিয়ে তুলেছে। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারছেন না দলের প্রাণভোমরা আরদা গুলের ও বারিশ আল্পের ইলমাজ। পাশাপাশি চোটের কারণে আগে থেকেই দলে নেই হাকান কালহানোগ্লু ও কেনান ইলদিজ। মেরিহ দেমিরালের নেতৃত্বে এই স্কোয়াড নিয়েই অঘটন ঘটানোর খোঁজে নামবে ক্রিসেন্ট-স্টাররা।
