পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ তলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো ভবনটি প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য চালু করা হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালি জমেছে। প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকা নতুন আসবাবপত্রেও জমেছে ময়লা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় লিফটসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি সরজমিন দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন তলায় ধুলাবালি জমে রয়েছে। কয়েকটি ফ্লোরে দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না হওয়ায় পাখি মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভবনে স্থাপিত লিফটগুলোও নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না। জানা যায়, ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরমধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য নির্মিত আবাসিক হল, প্রশাসনিক ভবন ও টিএসসি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে আবাসিক হলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবিতে চালু হলেও এখনো প্রশাসনিক ভবন ও টিএসসি ভবন চালু করা হয়নি। প্রশাসনিক ভবনটি চালু না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রমে স্থান সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন ভবনে দপ্তরগুলো স্থানান্তর করা গেলে মেডিকেল সেন্টারের বর্ধিত কার্যক্রম, রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার সেল, উদ্যোক্তা (Entrepreneurship) সেলসহ বিভিন্ন দপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অফিসের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। বর্তমানে এসব কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত জায়গার সংকট রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আসবাবপত্র, লিফট ও অন্যান্য স্থাপনা নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের বাইরে থাকায় সেগুলোর সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দ্রুত ভবনটি চালু করা গেলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য বিদ্যমান স্থান সংকট কমার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ বলেন, “প্রশাসনিক ভবনের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে যেকোনো মুহূর্তে নতুন ভবনে উঠতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা প্রশাসনিক ভবন চালু করবো। বিভিন্ন দপ্তর সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। আশা করি, এর মাধ্যমে দপ্তরগুলোর বিদ্যমান স্থান সংকট দূর হবে।”
