উয়েফা নেশনস লীগের এ-৩ গ্রুপের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে তাদেরই মাটিতে ৭-০ গোলে হারালো। নিজেদের ফুটবলের ইতিহাসে ঘরের মাঠে ক্রোয়েশিয়ার এটি সবচেয়ে বড় পরাজয়। রেকর্ড গড়া জয়ের পর ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার মোক্ষম অস্ত্র। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারের পর এটি ছিল দলটির জন্য দারুণ এক ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ। যদিও আন্তর্জাতিক বিরতিতে স্পেনের কাছে হারের পর চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয়ের মালা পড়ে টুখেলের শিষ্যরা। এবার ক্রোয়াটদের বিধ্বস্ত করে ইংলিশ কোচ বলেন, ‘এটিই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায়। যদিও আপনার মনে এখনো ব্যথা থাকতে পারে।
হতাশা অনুভব করলেও খেলা চালিয়ে যেতে হবে, এটাই খেলার নিয়ম।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ (বিশ্বকাপ) টুর্নামেন্টের পর ক্যাম্পের শুরুটা সহজ ছিল না। তবে মঙ্গলবার প্রথম ট্রেনিং সেশন থেকেই খেলোয়াড়দের ফোকাস ছিল দারুণ। ক্রোয়েশিয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে এমন আধিপত্য বিস্তার করে জয় পাওয়াটাই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ।’ টুখেল আরও বলেন, ‘আমি অনেকবারই বলেছি, আমাদের মনে একটি ক্ষত এবং হতাশা আজীবন থাকবেই। তবে আমাদের সেই ব্যথা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্বকাপের পর আমরা কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এনেছি এবং খেলোয়াড়রা তা দারুণভাবে মাঠে প্রয়োগ করছে। আমরা দিন দিন আরও ভালো খেলছি।’ রিয়েকার স্তাদিয়ন রুয়াভিচে শুরু থেকেই ইংলিশরা আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায়। ম্যাচের ৮ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের গোলে লিড নেয় সফরকারীরা।
২১ মিনিটে জুড বেলিংহামের বুদ্ধিদীপ্ত ফিনিশিং এবং ৩৮ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ হেডে ব্যবধান আরও বাড়ে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বুকায়ো সাকার গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ৫৩ মিনিটে কেইন নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করেন। ৬৮ মিনিটে সাকা নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। ৮৭ মিনিটে বদলি নামা মরগান রজার্স দলের সপ্তম ও ঐতিহাসিক গোলটি নিশ্চিত করেন। পুরো ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ড ইংলিশ যুবশক্তি ও গতির সামনে স্রেফ অসহায় আত্মসমর্পণ করে। এর আগে ২০১৮ সালে স্পেনের কাছে ৬-০ গোলে হারা ক্রোয়েশিয়া রিয়েকায় তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে তিক্ত হারের বিস্বাদ পেল। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান (+৮) নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে থ্রি লায়নরা।
