পলিথিনের ঘরে বিলকিসের সংসার

পলিথিনের ঘরে বিলকিসের সংসার

ফন্ট সাইজ:

লালমনিরহাটে সেতুর উপর খোলা আকাশের নিচে কুঁড়ে ঘরেই অসহায় বিলকিসের সংসার। চার বছর ধরে জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করেই বসবাস। ট্রাক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে আট মাস ধরে কাতরাচ্ছে বিলকিস। মানবিক কারণে এলাকাবাসী খাবার দেয় চার বছর ধরে। বিলকিসকে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে এসে দাঁড়ান পাশে। তবে দরিদ্র পরিবারের বিলকিসের আর্তনাদ পৌঁছায়নি প্রশাসনের কানে। সরজমিন লালমনিরহাটের আদিতমারী ভাদাই স্বর্ণামতি সেতুর পাশে বিন্নাগরি সেতুর উপরে পলিথিন ঘেরা বিলকিসের কুড়ো ঘরে গেলে জানা যায় তার কষ্টের কথা। বিলকিসের বয়স ৭০ বছর। বাড়ি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জে। তার স্বামী আবু সাঈদ মারা গেছে কয়েক বছর পূর্বে। ভুলবশত ৪ বছর পূর্বে ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে আসেন আদিতমারী রেলস্টেশনে। এসে পথ ভুলে যায়।

পরে বিলকিস আদিতমারী রেলস্টেশন এলাকায় আশ্রয় নেয়। বিলকিসের অসাহয়ত্ব দেখে স্বর্ণমতি নদীর বাজারের ব্যবসায়ীরা পাশে দাঁড়ায়। তারা পাশে বিন্নাগারী খালের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেতু স্লুইচগেটে পলিথিন, বাঁশ ও পাতা দিয়ে কুড়ো ঘর তৈরি করে। সড়কের পাশে সেতুর উপরে চারদিক খোলামেলা নির্জন স্থান। সেই কুড়ো ঘরেই অসহায় বিলকিসের কাটে জীবনের ৪টি বছর। বিলকিস জানান, ভুলে গেছেন বাড়ির কথা।

পলিথিনের ঘরেই তার শেষ সম্বল। দিন-রাতে খাবার দেয় ওই এলাকার লোকজন। একেক দিন খাবার দেয় একেক পরিবার। সে চায় হুইল চেয়ার। বিলকিসের ডান পা ট্রাকের চাকায় ভেঙে যায়। এলাকাবাসী সেকেন্দার আলী জানান, আমি বিলকিসকে অসহায় অবস্থায় দেখে খোলামেলা সেতুর পাশে পলিথিনের ঘরটি তৈরি করি। তবে বিলকিসের জন্য সরকারি সহয়তা প্রয়োজন। আদিমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুনজন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি তার নজরে কেউ আনেনি। তবে এখন বিষয়টি দেখবে। জেলা সমাজ সেবা উপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক জানালেন, বিলকিসের ভোটার কার্ড না থাকার কারণে তার পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।