নরসিংদী-নারায়ণগঞ্জে ৫২০ কার্টন বন্ডের সুতা জব্দ

ফন্ট সাইজ:

রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৫২০ কার্টন সুতা নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জব্দ করেছে পুলিশ। এসব সুতা স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর মাধবদীতে একটি ভ্যান থেকে ২০ কার্টন এবং নারায়ণগঞ্জের পুরিন্দা এলাকার তিনটি গুদাম থেকে আরও ৫০০ কার্টন সুতা জব্দ করা হয়।
শনিবার মাধবদীতে ভ্যানটি দেখে সন্দেহ হলে সেটি থামান আমানত শাহ টেক্সটাইলের পরিচালক ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক পরিচালক কামরুল হাসান। পরে ভ্যানটি থানায় নেয়া হলে পুলিশ তল্লাশি করে ২০ কার্টন সুতা জব্দ করে। এসব কার্টনে প্রায় ২ হাজার ২০০ পাউন্ড সুতা ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। ভ্যানচালককে হেফাজতে নেয়া হয়।

পরে সুতার উৎস অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জের পুরিন্দা এলাকায় গিয়ে তিনটি গুদাম থেকে আরও ৫০০ কার্টন সুতা পায় পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, এসব গুদামের একটি জাহাঙ্গীর আলমের। বন্ডের সুতা স্থানীয় বিভিন্ন টেক্সটাইল মিলে সরবরাহের জন্য গুদামটি পরিচিত বলেও তাঁরা জানান। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তানবাজারের বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে তিনি এসব সুতা কিনেছেন। তবে কেনার ভ্যাট চালান দেখাতে পারেননি। এক ভিডিওতে একজন ক্রেতাও জব্দ করা সুতা বন্ড সুবিধায় আমদানি করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, জব্দ করা সুতার আমদানি কাগজপত্র, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং কোন প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় তা নেয়া হচ্ছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে। বিষয়টি কাস্টমস কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, শুধু পণ্য জব্দ করাই যথেষ্ট নয়। কার নামে পণ্য আমদানি হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্সের আওতায় তা খালাস হয়েছে, কীভাবে গুদামে পৌঁছেছে এবং কোথায় যাওয়ার কথা ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রকৃত আমদানিকারক ও সরবরাহকারী শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) গত বছরের মার্চে এনবিআরে পাঠানো এক প্রতিবেদনেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাঁচামাল আমদানি, বেশি ওয়েস্টেজ দেখানো এবং সুতার গ্রেড পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। ৮০ কাউন্টের সুতা ৩০ কাউন্ট হিসেবে ঘোষণা করে আমদানির অভিযোগও ছিল ওই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, এমন সুতার ৬০–৭০ শতাংশ নরসিংদী, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়।