ইউক্রেনে জার্মান চ্যান্সেলরের ঝটিকা সফর, কিয়েভের সেতুতে রাশিয়ার ড্রোন হামলা

ইউক্রেনে জার্মান চ্যান্সেলরের ঝটিকা সফর, কিয়েভের সেতুতে রাশিয়ার ড্রোন হামলা

ফন্ট সাইজ:

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্ৎসের আকস্মিক কিয়েভ সফরের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানীতে আবারও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রবিবার সকালে কিয়েভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘পিভনিচনি’ বা নর্দার্ন সেতু লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সেতুটিতে এই হামলা হলো, যার ফলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, রবিবারের ড্রোন হামলায় সেতুর ওপরের সড়ক ছাড়াও একটি প্রধান হিটিং পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দেসনিয়ানস্কি এলাকায় সাময়িকভাবে গরম পানি সরবরাহ ব্যাহত হবে। হামলার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল যখন ঘটনাস্থলে কাজ করছিল, ঠিক তখনই ট্রেনে চেপে ঝটিকা সফরে কিয়েভে পৌঁছান জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্ৎস। কিয়েভে পা রেখেই ইউক্রেনের প্রতি বার্লিনের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে বাড়তি সহায়তার আশ্বাস দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মের্ৎস জানান, ‘ইউক্রেন এখন অত্যন্ত সংকটময় সপ্তাহের মুখোমুখি। তাই আমি এই বার্তা দিতেই আজ কিয়েভে এসেছি— আপনারা আমাদের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন। এই যুদ্ধের ফলাফলের সঙ্গে জার্মানির নিজস্ব নিরাপত্তাও জড়িত।’

এদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক রসদ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এসব সেতুতে ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের অবিলম্বে কিয়েভ ত্যাগের হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করেছে মস্কো। কিয়েভের বুক চিরে বয়ে যাওয়া দিনিপ্রো নদীর ওপর এই সেতুগুলো শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ড্রোন হামলায় বিশাল সেতু পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলেও ধারাবাহিক বিস্ফোরণে এর স্থায়িত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে, যা শহরটিকে অচল ও কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলবে।