বৈরুতের কোনো নীল সন্ধ্যায়
যখন সাগর ঘুমিয়ে পড়ে জলপাই পাতার ছায়ায়,
জিবরান লিখে যান—
একটি নাম, একটি নীরবতা,
একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার কবিতা।
মেরি হাস্কেল ছিলেন দূরের জানালা—
যার উতলা হৃদয় ছুঁতে পারেনি তার নরম হাত,
তবু যার আলো এসে আছড়ে পড়ত
জিবরানের একাকী ঘরের টেবিলে,
শীতের কুয়াশায় হারানো কোনো পাখির ডানার মতো।
তারা যখন পাশাপাশি ছিলেন বস্টনে,
তখনও দুজনের মাঝখানে
কত নদী বয়ে গেছে,
মেঘলা আকাশের নিচে,
কত শরতের ঘাসে শিশির নেমেছে
সন্ধ্যারাতে একটি তারা জ্বলবে বলে, কিন্তু জ্বলেনি।
মেরি হয়তো জানতেন—
কিছু ভালোবাসা আছে, কাছে এলে মরে যায়;
দূরে থাকলেই তারা
হয়ে ওঠে হাওরের জলে ভাসা চাঁদ—
ছোঁয়া যায় না, তবু মনের গহিনে সারারাত
আলো ফেলে রাখে।
জিবরান চলে গেলেন—
মুখ ফুটে কিছু বলে গেলেন না।
শুধু রেখে গেলেন কিছু না-বলা শব্দ,
আর মেরির দিকে তাকানো
একটি দীর্ঘ নীরব চোখ।
আজও কোনো শরৎরাতে লেবাননের
পাহাড়ের ওপরে চাঁদ উঠলে মনে হয়—
দুইটি পাখি উড়ে যাচ্ছে বিপরীত আকাশে;
তবু তাদের ছায়া পড়ে একই
‘লিতানি’ নদীর নীরব জলে।
অক্টোবর ২, ২০২৬
‘লিতানি’ নদীর নীরব জলে
আবু এম ওয়াহিদ
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
৪ অক্টোবর (রবিবার), ২০২৬, ১১ঃ১৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
