ফ্লাইদুবাইয়ে হামলার নেপথ্যে কে এই ‘রহস্যময়’ কো-পাইলট?

ফ্লাইদুবাইয়ে হামলার নেপথ্যে কে এই ‘রহস্যময়’ কো-পাইলট?

ফন্ট সাইজ:

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ককপিটে হামলার অভিযোগ ওঠার পর সহকারী পাইলটকে ঘিরে রহস্য বেশ ঘনীভূত হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে ওমানের নাগরিক হামাম আল-হামামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় বা কথিত উগ্রপন্থি মতাদর্শ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। খবর আল জাজিরার।

গত বুধবার ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অভিযোগ, জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আঘাত করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেন আল-হামামি।
ঘটনার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং আল-হামামির সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কিনা তা এখনো তদন্তাধীন। পাশাপাশি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেয়ার আগে তার অতীত পেশাজীবনে কোনো সতর্ক সংকেত ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উগ্রপন্থার অভিযোগ কেন?
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এপিকে জানান, হামাম আল-হামামিই হামলার সন্দেহভাজন। এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন উপসাগরীয় ও অপর দুইজন পশ্চিমা বিশ্বের কূটনীতিক। তবে তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
একজন কূটনীতিক জানান, হামামি একাই হামলা চালিয়েছিলেন, নাকি কোনো উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, হামামি ওমানের নাগরিক। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার জন্ম। তার মা সিরিয়ার নাগরিক। জীবনের কয়েক বছর আমিরাতেই কাটিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কথিত উগ্রপন্থি মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওমানি কর্তৃপক্ষ একসময় তাকে দেশে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল।
তবে তার কথিত মতাদর্শ কী ছিল কিংবা ওমান অন্য দেশ বা বিমান সংস্থাকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
সিএনএনের আরেক প্রতিবেদনে এক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, একই ধরনের উদ্বেগের কারণে হামামিকে পাইলট প্রশিক্ষণ থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

পেশাজীবনে কী তথ্য মিলছে?
হামামি নামের একটি লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর জুনে রয়্যাল এয়ার মারকে যোগ দিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেটিও ছাড়েন।
যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, হামামি সেখানে বিমান ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।

ককপিটে সেদিন কী ঘটেছিল?
গত বুধবার সকাল ৭টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এফজেড১০৭৩। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
প্রায় দুই মিনিটে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায় বিমানটি। এরপর আবার ওপরে উঠে ফের নিচে নামতে থাকে।

এ সময় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে লড়াই চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, হামিমি ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন।
গুরুতর আহত স্মিত পরে জানান, বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, এটাই শেষ সুযোগ। দ্রুত তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে ঢুকে হামিমিকে কাবু করেন।
এরপর বিমানে থাকা দুই রিজার্ভ পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান।

আমিরাতের তদন্তে কী মিলেছে?
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি শনিবার বলেন, তদন্তকারীরা মনে করছেন হামিমি একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ শুরু করেছিলেন।
তার ভাষ্য, জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে হামলা করা হয় এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, হামামি একাই কাজ করেছিলেন কিনা- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। আবুধাবির নেতৃত্বে তদন্ত চলছে।
হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সহযোগী এবং শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।