বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বিএনপি পদত্যাগ করলে জামায়াত ও এনসিপি দেহত্যাগ করার সময়ও পাবে না। দল হিসেবে এনসিপি ৫ই আগস্ট মাঠে ছিল না— তবে তাদের কিছু নেতা নেতৃত্ব দিয়েছে। হাসিনা ও তার দলের দ্বারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা আর কেউ পৃথিবীতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও যে নির্যাতিত হয়েছেন তার চেয়ে বেশি আমরা হইনি। গতকাল দুপুরে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা পীর মোহাম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একজন নির্যাতিত অন্য আরেকজন নির্যাতিতের মর্ম বোঝে। তাই প্রধানমন্ত্রী সব নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীসহ সকল জাতি গোষ্ঠীকে একটি মেইন স্টেটে নিয়ে তাদের সকল অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। গয়েশ্বর আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে বলেছিলেন তাদের ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। কিন্তু যারা তাদের ভোট দিয়েছেন তারা কিন্তু জান্নাতপ্রাপ্ত হয়নি। কিছুদিন আগে জামায়াতের এক নেতা এক মহিলাকে জান্নাতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা কথায় কথায় হুমকি দেয়। তারা এক দফা দেয় লংমার্চ করে শর্টমার্চ করে। কীসের উপর লংমার্চ করে কেন করলো। একটা বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অর্থনৈতিকভাবে ফ্যাসিস্টরা একেবারে পঙ্গু করে দিয়েছে। প্রশাসন শেষ করে দিয়েছে। সেই প্রশাসনকে পেশাদারিত্বে ফিরিয়ে আনা এখন কষ্টকর হচ্ছে। এনসিপি জুলাই আন্দোলনের আন্দোলন করেনি। কিছু নেতা জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এটা অস্বীকার করবো না।
তাদের আমরা স্যালুট জানাই। তারাই এখন কথায় কথায় সরকারকে ফেলে দিচ্ছে। তাদের কথায় যদি তারেক রহমান পদত্যাগ করে তাহলে জান্নাতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের টিকিট বিক্রিকারী ও এনসিপিদের ব্যবস্থা নিতে কতোক্ষণ সময় লাগবে আমাদের। তিনি বলেন, আমরা যদি আজ পদত্যাগ করি তাহলে পরশুদিন ফ্যাসিবাদীরা জামায়াতের কবর রচনা করবে। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তারেক রহমান লড়াই করেছেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। জিনজিরা পীর মোহাম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামিউল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জ সিট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইমান উল্লাহ মাস্তান, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আবু জাহেদ মামুন, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি মো. পাবেল মোল্লা প্রমুখ।
