জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘শতবার বেয়াদব হইতে রাজি আছি, কিন্তু একবারের জন্যও চাঁদাবাজ হইতে রাজি না।’ আগামী স্থানীয় নির্বাচনে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও টাকার খেলা হলে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানিহাট সি ওয়ার্ল্ডের হলরুমে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত মতবিনিময় ও যোগদান সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আগামীর স্থানীয় নির্বাচনে যদি চাঁদাবাজির টাকায়, সন্ত্রাসীর টাকায়, দুর্নীতির টাকায় মাসল পাওয়ার এবং টাকার খেলার শক্তি দেখাতে আসেন, তাহলে দেশে গণ-অভ্যুত্থানের যেসব শক্তি রয়েছে, তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার আপনাদের টুটি চেপে ধরতে বাধ্য হবে।’ স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন আমরা অতিদ্রুত দিয়ে দেবো।
স্থানীয় যিনি প্রতিমন্ত্রী, মীর শাহ আলম বলেন, কিছুই জানি না। নির্বাচন কমিশন বলে, রাজা-বাদশা আপনি যা বলেছেন, তাই শিরোধার্য। পরবর্তীতে আবার মিটিং ডাকছে। মিটিং হয়, দিন যায়, রাত আসে, কোনো সমাধান হয় না।’ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি’র এই নেতা বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট-সাধনা করে এই বৈপ্লবিক পরিস্থিতি থেকে একটি গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির দিকে যাত্রা করেছি। আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশে সংস্কার হবে। আপনারা বলেছিলেন, আগে নির্বাচন দেন, তাহলে বাংলাদেশে সংস্কার হয়ে যাবে।’ নির্বাচনের পরও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচন দেন, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। যদি নির্বাচন দেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন হয়ে গেল। চাঁদাবাজি বেড়েই চলছে। নির্বাচন হয়ে গেল, দুর্নীতি বেড়েই চলছে। এদিকে একই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রায় তিন হাজার মানুষ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপি’র আহ্বায়ক লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এতে এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনাইদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা সদস্য সচিব জুবায়েরুল আলম মানিক, যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুপ্তা বুশরা মিশমা ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক জুবায়ের আরিফসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যোগদানকারীদের মধ্যে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মী, সামাজিককর্মী, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা রয়েছেন। পাশাপাশি এলডিপি, আপ বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীরাও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
