গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আড়ং: বিশ্বের বৃহত্তম কারুশিল্প বিপণন কেন্দ্রের স্বীকৃতি

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আড়ং: বিশ্বের বৃহত্তম কারুশিল্প বিপণন কেন্দ্রের স্বীকৃতি

ফন্ট সাইজ:

৮৭ হাজারেরও বেশি কারুশিল্পীর অংশগ্রহণ ও দক্ষতায় বাংলাদেশের কারুশিল্প ঐতিহ্যের জন্য এক বৈশ্বিক মাইলফলক।

 ব্র্যাকের সামাজিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, “বিশ্বের সর্ববৃহৎ কারুশিল্প বিপণন কেন্দ্র” হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর স্বীকৃতি পেয়েছে আড়ং ধানমন্ডি ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট। এই স্বীকৃতি আউটলেটটির বিশাল পরিসর, বৈচিত্র্যময় কারুশিল্প এবং ক্রাফট অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

অনুষ্ঠানে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় প্রদর্শিত হয় একটি বিশেষ মিউজিক ভিডিও, যেখানে আরমিন মুসা ও ঘাসফড়িং কয়ার পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আনন্দলোকে”। ভিডিওটিতে ধানমন্ডি ফ্ল্যাগশিপকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের এক জীবন্ত প্রদর্শনভূমি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কারুশিল্প, জীবনের গল্প এবং ঐতিহ্য একসূত্রে গাঁথা।

ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, “এটি শুধু একটি রেকর্ড নয়, কারুশিল্পের পেছনে থাকা মানুষের স্বীকৃতি। কারুশিল্পকে সম্মান জানানো মানে আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা। আর এর পরিসর যত বাড়ে, ততই বাড়ে মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ। এই অর্জন সেই কারুশিল্পীদের, যাদের দক্ষতা ঐতিহ্যকে জীবিকা ও মর্যাদায় রূপ দেয়।”

উপহার ও উদযাপনের সঙ্গে আড়ং -এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ধানমন্ডি ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটের স্থাপত্যে ব্যবহার করা হয়েছে রিবন-প্রেরিত নকশা, যা দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করেছে এক দারুণ স্থাপত্যশৈলীর অভিজ্ঞতা। এখানে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কারুশিল্প স্থাপনা—এর মধ্যে “সাঁওতাল গাঁও” টেরাকোটা ওয়ালটি প্রায় ১০০টি কুমোর পরিবারের অংশগ্রহণে নির্মিত একটি বৃহৎ মৃৎশিল্প স্থাপনা; এবং “দ্য গ্রেট এরিনা”, ২৫০ জন কারিগরের ছয় মাসের পরিশ্রমে তৈরি ৪৪ ফুট দীর্ঘ নকশি কাঁথা, যা চার তলা জুড়ে রয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের সূচিশিল্প ঐতিহ্যের প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক।

এই স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে শুরু হচ্ছে একটি দেশব্যাপী উদযাপনও। দেশের ১০টি আড়ং আউটলেটে আয়োজন করা হবে একটি পপ-আপ গ্যালারি অভিজ্ঞতা, যেখানে দর্শনার্থীরা ধানমন্ডি ফ্ল্যাগশিপের বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং এই বিশ্বরেকর্ড অর্জনের গল্প কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।

আড়ং-এর এই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জন বাংলাদেশের কারুশিল্প ঐতিহ্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক স্বীকৃতি, যার পেছনে রয়েছে এমন একটি সামাজিক উদ্যোগ, যেখানে প্রতিটি ক্রয় কারুশিল্পীদের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে এবং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে জীবন্ত রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন